‘উন্নয়ন বিতর্ক’ উত্তাপ ছড়াচ্ছে সিলেটের নির্বাচনী মাঠে

0
103

সিলেট প্রতিনিধি: সিসিক নির্বাচনে উন্নয়ন বিতর্কে জড়িয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। একজন বলছেন, তিনি যে উন্নয়ন করেছেন, অতীতে তা হয়নি। অপরজন বলছেন, উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে; ‘কসমেটিকস উন্নয়ন’ হয়েছে। শীর্ষ দুই দলের মেয়র প্রার্থীদের এই বিতর্ক উত্তাপ ছড়াচ্ছে সিলেটের নির্বাচনী মাঠে।

সিসিকের তৃতীয় নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। বছরখানেক দায়িত্ব পালনের পর প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে যেতে হয় তাকে। প্রায় ২৯ মাস কারান্তরীণ ছিলেন আরিফ। তিনি বলছেন, যে সময়টুকু তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, তাতে সিলেট নগরীর অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের স্বার্থে কারো সাথেই আপোষ করেননি বলে দাবি আরিফের। সিসিকের আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণায় এই উন্নয়নের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

উন্নয়নের বদলে আবারও নগরবাসীর ভোট চাইছেন আরিফ। তার দাবি, প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনকালে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ছড়া-খাল উদ্ধার, রাস্তা সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন, পানি সংকট কমানোর ব্যবস্থা প্রভৃতি নানা উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছেন। আরিফ বলছেন, সিলেট নগরীর উন্নয়নের জন্য তিনি কয়েকটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, যেগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছেন। উন্নয়ন তরান্বিত করতে পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরী করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথাও বলছেন আরিফ।

কিন্তু সিসিকের প্রথম দুই মেয়াদের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলছেন, আরিফ উন্নয়নের নামে লুটপাট করেছেন। বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সিলেটের উন্নয়নে আন্তরিক। তাই প্রচুর বরাদ্দ পেয়েছেন আরিফ। কিন্তু সেই বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে না লাগিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। ছড়া-খাল উদ্ধার ও সংস্কারে ২৩৬ কোটি বরাদ্দ দেয়া হলেও সেই টাকা সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি।

কামরানের দাবি, যেসব উন্নয়ন হয়েছে, সেগুলোও ঠিকমতো হয়নি। এক্ষেত্রে ‘কসমেটিকস উন্নয়ন’ হয়েছে বলে দাবি করছেন কামরান। তিনি প্রশ্ন তুলছেন, আরিফের মেয়াদকালে তিনি যদি দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন থাকেন, তাহলে বাকি তিন বছর কি উন্নয়ন হয়নি? নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় আরিফের ‘কসমেটিকস উন্নয়ন ও লুটপাটের’ বিষয়টি তুলে ধরছেন কামরান।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘স্বল্প সময়ে আমি যে উন্নয়ন করতে পেরেছি, অতীতে তা কখনোই হয়নি। এই উন্নয়ন দেখে কারো কারো গাত্রদাহ হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নের স্বার্থেই নগরবাসী আবারও আমার পক্ষেই রায় দেবেন।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘সরকারের টাকায় উন্নয়ন করে তা নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন আরিফ। উন্নয়নের জন্য প্রচুর বরাদ্দ পেলেও সঠিকভাবে কাজ করেননি তিনি। কসমেটিকস উন্নয়ন হয়েছে, নগরবাসী এবার কসমেটিকস উন্নয়ন এর জবাব দেবে।’