গোসাইরহাটে ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে বাদির প্রতি পুলিশের চাপ !

0
33

খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানায় এক ব্যবসায়ী পুত্রের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে বিপাকে পড়েছে মামলার বাদিনী ও তার অসুস্থ পিতা-মাতা। ধর্ষণ মামলার বাদিনী ও তার মাকে দেহ ব্যবসা করার অপবাদ দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও আসামীদের সাথে মামলা আপোস মীমাংশা করার জন্য চাপ দেয়া ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠেছে খোদ তদন্ত কর্মকর্তা গোসাইরহাট থানার এসআই রাজিবের বিরুদ্ধে। রোববার (২২ জুলাই) সকালে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে।

গোসাইরহাট থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার উত্তর হাঁটুরিয়া গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনছার রাড়ীর পুত্র আলীম তাজ রাড়ীর বিরুদ্ধে একই উপজেলার মহেশ^রপট্রি গ্রামের দুলাল খানের কন্যা শারমিন আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২ বছর যাবত ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগি ওই নারী বাদী হয়ে ১৭ জুলাই রাতে গোসাইরহাট থানায় ৩ জনকে আসামী করে একটি এজাহার দায়ের করেছে। মামলার আসামীরা হলো ধর্ষক আলীম তাজ রাড়ী, তার পিতা আনছার রাড়ী ও ভাই আলমগীর রাড়ী।

আনছার রাড়ী ও আলমগীর রাড়ীর বিরুদ্ধে ধর্ষক আলীমতাজকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এরপর গোসাইরহাট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোসাইরহাট বাজার থেকে আনছার রাড়ী ও আলমগীর রাড়ীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজিব মামলার ২ নং আসামী আলমগীর রাড়ীকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করলেও ৩ নং আসামী ধর্ষক আলীমতাজ রাড়ীর পিতা আনছার রাড়ীকে ছেড়ে দিয়েছে। এছাড়াও মামলার প্রধান আসামী ধর্ষক আলীমতাজ নিজ এলাকায় ঘুরাফেরা করলেও পুলিশ তাকে ধরছে না বলে অভিযোগ ওঠেছে।

মামলার বাদিনী শারমিন আক্তার স্থানীয় সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোসাইরহাট থানার এসআই রাজিব ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে দেহ ব্যবসা করার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। তার অসুস্থ বাবা দুলাল খানকে আসামীদের সাথে মামলা আপোস মীমাংশা করার জন্য চাপ দিচ্ছে। মহিলা পুলিশ দিয়ে তাদেরকে ধরে কোর্টে চালান দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। আসামীরা জামিনে বের হলে তাদের নামে উল্টো মামলা দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে দারোগা রাজিব। আর মামলা চালাতে হলে টাকা দিতে হবে বলে ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দিচ্ছে রাজিব দারোগা। এমতাবস্থায় থানায় ধর্ষণের মামলা করে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে নির্যাতিত ওই পরিবারটি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মামলা আপোস মীমাংশা করার জন্য দারোগা রাজিব মামলার বাদিনী ও তার মাকে চাপ দিচ্ছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। থানায় মামলা দিলেও যদি হয়রানির শিকার হতে হয় তাহলে নির্যাতিত লোক যাবে কোথায়? এসব প্রশ্ন এলকাবাসীর। এদিকে ধর্ষক আলীমতাজ রাড়ী ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আত্মীয়। আর মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজিবের সাথে ওই নেতার সখ্য থাকায় ধর্ষককে গ্রেফতার করছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। খোদ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক বাদিনীকে হুমকি দেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগির অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোসাইরহাট উপজেলার মহেশ^রপট্রি গ্রামের দুলাল খানের কন্যা শারমিন আক্তারের সাথে ২ বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ব্যবসায়ী পুত্র আলীমতাজ রাড়ী। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে গত ২ মাস যাবত তার সাথে সহবাস করে আসছে আলীমতাজ রাড়ী। ১৮ জুলাই আলীমতাজকে অন্যত্র এক মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়া হচ্ছে এরকম সংবাদ পেয়ে শারমিন আক্তার তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। তখন আলীমতাজ রাড়ী তাকে বিয়ে করার কথা অস্বীকার করে। পরে ভুক্তভোগী ওই নারী গোসাইরহাট থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছে। এসব বিষয় সম্পর্কে গোসাইরহাট থানার এসআই রাজিবের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং এ প্রতিবেদকে উক্ত মামলার প্রসিকিউশনে জড়িয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানা অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাসুদ বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। মামলার বাদী আমার কাছে এসেছিল। সেও এমন কোন অভিযোগ করে নাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here