নাশকতা মামলার আসামীরাই আ.লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতা !

0
96

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ৫ বছর পূর্বে সরকারের পতন ঘটাতে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনে মহাসড়কে গাড়ীতে পেট্রোল বোম ছুড়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে এমন অনেক নেতাকর্মীর হাতে এখন সাভার-আশুলিয়ার যুবলীগের নেতৃত্ব।

আবার এদের মধ্যে অনেকেই আ’লীগে যোগ দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বে নিজেদের অবস্থান করে নিয়েছেন। কেউ কেউ হয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরও।

বিএনপি থেকে আওয়ামী যুবলীগে যোগ দিয়ে স্থানীয় রাজনীতির নেতৃত্বের আসনটি পাকাপুক্ত করায় ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা গেছে তৃনমূল থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির আদর্শের নেতাকর্মীদের মাঝে।

দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে কেন ভিন্ন দল থেকে আসা এসব নেতাদের গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন করা হয়েছে এমন প্রশ্নে সাভার-আশুলিয়ার আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের মধ্যে অসন্তোষসহ বিরাজ করছে অভ্যন্তরীন কোন্দলও।

আর বিএনপি-জামায়াতের আদর্শের লোকজনকে দলে ভিরিয়ে গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন করেছেন ঢাকা-১৯ আসনের বর্তমান সাংসদ ডাঃ এনামুর রহমান এমন অভিযোগ খোদ আওয়ামীলীগ নেতাদের।

আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে ও খোজ নিয়ে জানা গেছে, আশুলিয়া থানার যুবলীগের আহ্ববায়ক কবির হোসেন সরকারের বাড়ি গাজিপুরের কাশিমপুরে। তার গোটা পরিবার বিএপির রাজনীতির সাথে জড়িত।

বড়ো ভাই শওকত হোসেন সরকার গাজীপুর জেলা বিএনপির সাহিত্য ও প্রচার বিষয়ক সম্পাদক। আরেক ভাই দবির উদ্দিন সরকার কাসেমপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

তবে কবির সরকার ইয়ারপুর ইউনিয়নে জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে সাভারের সাবেক সাংসদ ডা. সালাউদ্দিন বাবুর সাথে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন।

এর পর সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে আব্দুল্লাপুর-বাইপাইল মহাসড়কে নরসিংহপুর এলাকায় গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির সাবেক সাংসদ ও বর্তমান ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি ডা: সালাউদ্দিন বাবুর সাথে নাশকতার একাধিক মামলার আসামী কবির সরকার। পরবর্তীতে বর্তমান সাংসদ ডা: এনামর রহমানের হস্থক্ষেপে এসব মামলার এজাহার থেকে কবির হোসেন সরকারের নাম বাদ দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে সাভার পৌর এলাকার যুবদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে সর্বজনের নিকট পরিচিত ছিলেন মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা।২০১৩ সালে সাভারের জোরপুল এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি চলন্ত গাড়ীতে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় ওই গাড়ীর ভেতরে থাকা দুই যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় গাড়ী ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যা মামলার অভিুেযাগ দায়ের করা হয়।

এছাড়াও একই বছরে আরো চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছিলো বিএনপি কর্মী মিনহাজ উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে। এসব মামলা থেকেও সাংসদের হস্থক্ষেপে আসামীর তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

সাভার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলী হায়দার বলেন, মিনহাজ একসময় যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার বাবা আফাজ উদ্দিন মোল্লা ছিলেন একজন চিহ্নিত রাজাকার।

আর যুবদলের নেতা কবির সরকারের বিরুদ্ধে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের আব্দুল্লাপুর-বাইপাইল মহাসড়কে গাড়ীতে ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে বিএনপির সাবেক এমপি সালাউদ্দিন বাবুর সাথে একাধিক মামলা রায়েছে। অথচ সেই বিএনপির নাশকতাকারীকে আশুলিয়ায় যুবলীগের মতো একটি দলের আহ্ববায়ক করা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আর অন্যদিকে মিনহাজ মোল্লা আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে দলীয় সুবিধা নিয়ে এখন সাভার পৌরসভার নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল শেখ ২০০৭ সালে মুকসেদ পুর থানাধীন মোচনা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি ও ২০০৯ সালে মুকসেদপুর থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

শুধু তাই নয় এও শোনা যাচ্ছে উজ্জল শেখের সাথে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের রয়েছে গোপন যোগাযোগ। সে সাভারে এসে কিভাবে আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন পদে প্রবেশ করেছে? এ প্রশ্ন এখন অনেকের। অনেকে বলছেন বর্তমান এমপির বাসায় ভাল যাতায়াত ও মোটা অংকের টাকার জন্যই তার পক্ষে এই পদে আসীন হওয়া সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এসব নেতারাই দলের জন্য বিষফোঁড় হয়ে দাড়িয়েছে। এদের বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে একদিন বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে আওয়ামীলীগকে।

আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারনে এসব নেতাকর্মীদের নামে মহাসড়কে নাশকতার অভিযোগে থানায় একাধিক মামলা হয়েছে।

আর এসব মামলায় পুলিশি হয়রানি থেকে বাচার জন্য কয়েক বছর আগে ডা. এনামুর রহমানের হাত ধরে মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা, কবির হোসেন সরকার ও আব্বাস মিয়া আওয়ামীলীগে যোগ দেন। এর পর থেকেই তারা যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় সাংসদ ডা. এনামুর রহমানের সঙ্গে নিজেরে ছবি দিয়ে সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের এক নেতা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির চিহ্নিত নেতাকর্মীদের দখলে এখন আশুলিয়ার যুবলীগ। সাভারের যুবলীগের আহ্ববায়ক হতে যাচ্ছে বিএনপির আরেক নেতা। পেশী শক্তির কারনে বিএনপির কর্মীদের হাতে যুবলীগের কার্যক্রম চলে যাচ্ছে।

এতে করে বঞ্চিত হচ্ছে সক্রিয় অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীরা। এর ফলে সাভার উপজেলা আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের মধ্যে অসন্তোষ শুরু হয়েছে। যে কোন সময় এ অসন্তোষ অভ্যন্তরীন দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারন করতে পারে। এই সনুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাভার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কাঠামোকে দুর্বল করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটবে বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এসব হাইব্রিড নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিস্কার না করলে নির্বাচনে বড় ধরনের মাশুল দিতে হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগকে এমনটিই ধারনা করছেন তৃনমূলের আওয়ামীলীগ।

আওয়ামীলীগের একাধিক নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে আরো বলেন, আশুলিয়া থানা যুবলীগের কমিটিতে কবির সরকারকে আহ্ববায়ক করে কমিটি দেওয়ার জন্য নিজ প্যাডে লিখিত সুপারিশ করেন সাভারের সাংসদ ডা. এনামুর রহমান।

এছাড়াও মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা পৌর যুবলীগের আহ্ববায়ক হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা বলেন, গত কয়েকবছর আগেও যে সব নেতাকর্মীরা বিএরিপর জন্য মহাসড়কে জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন করেছে অথচ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে রাতারাতি তাদের হাতে আজ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্ব। এসব ঘটনার জন্য দায়ী স্থানীয় সাংসদ। তার রাজনৈতিক জ্ঞান না থাকার কারনেই এসব নেতাকে দলে ভিরিয়ে দলের ক্ষতির দ্বার উন্মুক্ত করেছে।

এসব বিষয়ে ঢাকা-১৯ আসনের সাংসদ ডা. এনামুর রহমান বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলতে কোন শব্দ নেই। অনেক কিছুই ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি তিনি আগে বুঝতে পারেনি, বর্তমানে এসব নেতাকর্মীর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই বলেও তিনি দাবী করেন।