‘নিজের সন্তানকে অন্য মায়েদের মতোই স্তন্যপান করাব’- সানিয়া মির্জা

0
114

‘‘নিজের সন্তানকে অন্য মায়েদের মতোই স্তন্যপান করাব’’— জানিয়ে দিলেন টেনিস কুইন সানিয়া মির্জা। চলতি বছরের এপ্রিলেই অন্তঃস্বত্ত্বা হওয়ার কথা প্রথম বার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন তিনি। তার পরে কেটে গিয়েছে আরও চার মাস। খেলা থেকে দূরে থাকলেও পাপারাৎজিদের নজর এড়াতে পারেননি তিনি।

মা হচ্ছেন সানিয়া! ছবি ঘিরে শোরগোল সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্ভবতী হওয়ার পরে নিজের মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে আগত সন্তানের পরিকল্পনা— সব বিষয়েই মুখ খুললেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘গালফ নিউজ’-এ। সেখানেই তিনি জানিয়ে দিলেন, ‘‘প্রথম সন্তানকে স্তন্যপান করাব। কোনও চাপ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। নিজের সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকাটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এটা শিশুর শরীরের পক্ষেও ভাল।’’

সন্তান জন্মানোর বিষয়েও আগাম পরিকল্পনা সেরে রেখেছেন শোয়েব মালিক-সানিয়া মির্জা জুটি। সানিয়া ‘গালফ নিউজ’-কে সেই সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘স্বাভাবিক পদ্ধতিতেই সন্তান ভূমিষ্ঠ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে চিকিৎসকদের উপরে পুরোপুরি ভরসা রাখছি।’’

‘মেটারনিটি লিভ’ চলাকালীন তিনি আপাতত রয়েছেন দুবাইতে। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি যা যা বললেন তা এই রকম—

নিজের গর্ভবস্থা নিয়ে: বেশ ভাল লাগছে। আমার কাছে অন্তঃস্বত্ত্বা অবস্থা স্বপ্নের মতো। মর্নিং সিকনেস একেবারেই অনুভব করছি না। মহিলা হিসেবে মা হওয়াটা সব সময়েই স্পেশ্যাল।

নিজের অভ্যেস: চকোলেট খাওয়া একদমই কমিয়ে দিয়েছি। এটা বেশ ভাল হয়েছে। না হলে আরও ওজন বাড়িয়ে ফেলতাম। রেড মিটও ছেড়ে দিয়েছি। তবে ইদানীং মশালাদার খাবারের উপরে লোভ বেড়ে গিয়েছে। চটপট্টা ধরনের খাবার, যেমন ভেলপুরি খুব খেতে ইচ্ছে করে। বর্তমানে একজন পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে ডায়েটিং চলছে।

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে কোর্টের র‌্যাঙ্কিং: গর্ভবস্থায় সেরেনার কথা প্রতিদিন মনে পড়ছে। সেরেনা যখন এক নম্বর প্লেয়ার ছিল, তখনই অন্তঃসত্ত্বা হয়। ঠিক তার আগেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিল ও। তা সত্ত্বেও মা হওয়ার পরে এ বছর ফরাসি ওপেনে যখন প্রথম গ্র‌্যান্ড স্ল্যামে ফিরল, বাছাইয়ের মর্যাদা পেল না। মহিলা টেনিস খেলোয়াড়দের ‘মেটারনিটি লিভ’ না থাকাটাই দুর্ভাগ্যজনক। এই নিয়মের অতি শীঘ্রই বদল হওয়া দরকার। সার্কিটে অন্তত কুড়ি জন মা চুটিয়ে পেশাদার সার্কিটে খেলছেন। তাঁদের অন্তত সম্মান জানাতেই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় র‌্যাঙ্কিং ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া উচিত। চলতি বছরেই মা হব আমি। পরের বছর ২০১৯-এ কোর্টে ফিরব। তবে আমার লক্ষ্য কিন্তু ২০২০-র অলিম্পিক। কারণ গর্ভবতী অবস্থায় আমার র‌্যাঙ্কিং এতটাই নেমে যাবে যে, সঙ্গে সঙ্গে বড় টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাব না।

নিজের জীবন: আমার জীবন ঠিক অন্যদের মতো নয়। পেশাদারি সার্কিটে বিশ্বমানের তারকা আমি। হাফ ডজন গ্র্যান্ড স্ল্যামের পাশাপাশি ডাবলসে এক বছরের বেশি সময় ধরে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান বজায় রেখেছিলাম। তবে অন্যান্যদের মতো আমি রান্নাবান্না করতে পারি না। তবে আর পাঁচটা সাধারণ মেয়েদর মতোই সংসার করার বাসনা ছিল। এই বিষয়ে শোয়েব আমাকে সাহায্য করেছে। ও নিজে আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রিকেটার বলে আমার বিষয় ভাল বোঝে।

বাচ্চার পরিচয়: আমার সন্তান যে ধর্ম কিংবা দেশেরই পরিচয় বহন করুক না কেন, সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা প্রত্যেকেই একজন মানুষ। এই জগতে ভাল মানুষ হওয়াটাই অন্য সব কিছুর তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ। (এবেলা, কলিকাতা)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here