খেলার মাঠ থেকে ইমরান খান পাকিস্তানের ‘উজিরে আজম’

0
61

খেলার মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠে এসেও ছক্কা হাঁকালেন ইমরান খান। দুই যুগ আগে খাদের কিনারা থেকে পাকিস্তানকে তুলে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। এবার দেশের মসনদে বসতে যাচ্ছেন ইমরান খান। প্রধানমন্ত্রী হয়ে নেতৃত্ব দিবেন পুরো দেশে।

বুধবার দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা চলার মধ্যেই জয়োল্লাস শুরু হয়ে গেছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) শিবিরে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মোট ২৭২টি আসনের মধ্যে ১১১টি আসনে জয় পেয়েছে ইমরান খানের দল পিটিআই। আর নওয়াজ শরীফের দল পিএমএল-এন ৬৮টি আসনে জয়ের পথে।

অন্যদিকে, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর দল পিপিপি ৩৯টি আসনে এগিয়ে। পাকিস্তানে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য কোন দলকে এককভাবে ১৩৭টি আসনে জয়লাভ করতে হয়।

এতে দেখা গেছে, ভোটগ্রহণ শেষ হলেও আরেক সমস্যা ভর করছে পাকিস্তানে। কারণ কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ফলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠিত হচ্ছে দেশটিতে। সেক্ষেত্রে জোট সরকার আসবে পাকিস্তানে। তাই সরকার গঠন করতে পিপিপিকে বাদ দিলে ইমরানকে অন্য দুই বা ততধিক দলকে কাছে টানতে হবে।

কারণ প্রয়োজনীয় আসন পূরণের জন্য অন্য দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের সংখ্যা খুবই সীমিত। এখন ইমরান তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে যত দ্রুত অন্য দলগুলো বাগে আনতে পারবেন, তত দ্রুতই এর সমাধান হবে।

এদিকে মধ্যরাতে পিটিআইর অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় ইমরান খানকে ‘উজিরে আজম’ হিসেবে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্টও দেয়া হয়েছে। অপরদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) এবং অন্যতম বড় দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) অভিযোগ তুলেছে ভোট কারচুপির, তবে তাতে কান দেয়নি দেশটির নির্বাচন কমিশন।

ডনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি সেনা সদস্য এবং পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর আরও সাড়ে ৪ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। এতো কঠোর নিরাপত্তা সত্ত্বেও ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মাথায় বেশ কয়েকটি জায়গার সহিংসতার ও ৩৪ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে।

স্থানীয় পুলিশকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাওয়ানকালি এলাকায় এন-১৯ (সোয়াবি ২) ও পিকে-৪৭ (সোয়াবি ৫) আসনে সহিংসতা হয়েছে। সেখানে ভোটকেন্দ্রের বাইরে পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।

ওই সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হয় পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের এক কর্মী। কোয়েটায় ইস্টার্ন বাইপাস এলাকায় একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে বোমা বিস্ফোরণে ৩১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here