বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগ্রহণ কেবল সার্টিফিকেট অর্জন করা নয়: ইউজিসি চেয়ারম্যান 

0
397

আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান (ইউজিসি) অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্ত চিন্তার ক্ষেত্র। এখানে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বাহ্যিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখবে এবং সেভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগ্রহণ কেবল সার্টিফিকেট অর্জন করা নয় বরং সৎ, বিবেকবান মানুষ তৈরি হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।”

বৃহস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি)  জহির রায়হান মিলনায়তনে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত নবীণ শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় নবীণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য তিনি আরও বলেন, “তোমরা হলে আগামী দিনের বাংলাদেশ। নিজের সত্য নীতির প্রতি সবসময় অনড় থাকবে। নীতিবিরুদ্ধ কাজ কখনই করবে না। তোমাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখে আগামীর বাংলাদেশ। ক্যাম্পাসে কোন অরাজক পরিবেশ তৈরি করবে না, সবাই মিলেমিশে একত্রে থাকবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম যদি একদিনের জন্য বন্ধ থাকে তাহলে মনে রাখবা পুরো রাষ্ট্র একদিনের জন্য থমকে দাঁড়ায়।”


এসময় তিনি আরও বলেন, “তোমরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ছো এর পিছনে গরীব মেহনতী মানুষের ঘাম ঝড়ানো অর্থ আছে। সরকার, মঞ্জুরী কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরলস পরিশ্রম আছে। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে কোন দেয়াল না রেখে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হও এই কামনা করি।”

সভাপতির ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে সুস্থ মানসিকতা ও উচ্চ-মানসম্পন্ন মনন সৃষ্টি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। নবীন শিক্ষার্থীরা নতুন জ্ঞান সৃষ্টির প্রচেষ্টা, নতুন চিন্তা ও আবিষ্কারে নিজেদের নিয়োজিত করবে। তোমাদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সদা প্রস্তুুত আছে। তোমাদের আন্তরিকতায় এই সুন্দর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরও সমৃদ্ধ হবে।

উপচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলেন, তোমরা অনেক কষ্ট করে হলে থেকে পড়াশোনা করছো। তোমাদের কষ্ট লাঘবের জন্য ইতোমধ্যে নতুন হল বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বছরের বাজেটে প্রায় ১২শত কোটি অর্থ পাবে বিশ্ববিদ্যালয়। এই অর্থ নতুন হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, নতুন বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এ সময় উপাচার্য আগামী ৩ বছরের কর্মকান্ডের রুপরেখা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।

বেলা ১১ টায় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং সভাপতির উপস্থিতিতে প্রবেশিকা অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার রহিমা কানিজ প্রত্যেক অনুষদের অন্তরভূক্ত বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে স্ব-স্ব অনুষদের ডীনবৃন্দকে আহবান জানান। এরপর স্ব-স্ব অনুষদের ডীনবৃন্দ নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সাদরে বরণ করে নেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মঞ্জুরুল হক, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ, প্রক্টর শিকদার মো. জুলকারনাইন, ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডীনবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, নবাগত ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রবেশিকা অনুষ্ঠান প্রতিহত না করে বর্জন করেছে উপাচার্য বিরোধী ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর একাংশ। তবে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি প্রশাসনিক ভবন অবরোধ অব্যাহত রাখেন তারা এবং দুপুরে কর্মসূচি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষকরা।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ