ইমরান খানের জয়ে তার ‘আধ্যাত্মিক’ স্ত্রীর প্রভাব কতটুকু?

0
99

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে ইমরান খানের জয় হয়েছে বলে প্রচলিত রয়েছে, সেই সঙ্গে নির্বাচনে জিততে ধর্মীয় সহানুভূতি অর্জন ও প্লেবয় ইমেজ দূর করতে তার তৃতীয় স্ত্রী বুশরা মানেকার প্রভাব নিয়েও রয়েছে আলোচনা। পাকিস্তানে ‘সুফি স্কলার’ হিসেবে পরিচিত বুশরার ‘আধ্যাত্মিক’ জীবন নিয়েও কৌতুহল রয়েছে বিভিন্ন মহলে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলা ইমরান খানের তৃতীয় স্ত্রী নাম বুশরা মানেকা (৩৯) দেশটির পাকপাত্তান এলাকার ওয়াত্তু গোত্রের একটি পীর পরিবারের মেয়ে।  চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই তারা বিয়ে করেন।  ধর্মীয় সহানুভূতি অর্জনই ইমরানের এই বিয়ের লক্ষ্য বলে অভিযোগ উঠে। এককালে ‘প্লেবয়’ অ্যাখ্যা পাওয়া ইমরান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিয়ের আগপর্যন্ত তিনি বুশরার চেহারা দেখেননি।

৬৫ বছর বয়সী ইমরানকে জড়িয়ে ২০১৬-এর মাঝামাঝি, ২০১৭-এর শেষের দিকে আর ২০১৮ সালের শুরুতে বুশরা মানেকাকে নিয়ে অনেক খবর রটে।  ইমরান বুশরার কাছে অনেক দিন ধরেই আধ্যাত্মিক নির্দেশনার জন্য যেতেন।

বিয়ের পরে ইমরান বলেছিলেন, সুফিবাদে আমার আগ্রহ শুরু হয় ৩০ বছর আগে। আমি আমার জীবন পরিবর্তন করেছি।

বিয়ের পরে ইমরান ও বুশরা

ধর্মবিষয়ক কোন প্রশ্ন দেখা দিলেই তিনি বুশরার কাছে যেতেন এবং তার পরামর্শ নিতেন। ইমরান বিয়ের পরে জানান, বিয়ের আগে আমি আমার স্ত্রীর মুখ দেখিনি।  আমি তার চেহারা না দেখেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেই। কারণ সে কখনোই মুখ না ঢেকে আমার সাথে দেখা করতো না।

তিন বছর আগে পাঁচ সন্তানের মা বুশরার সাথে যখন প্রথম ইমরানের কথা হয়, তখনও বুশরা বিবাহিত ছিলেন।

দুনিয়াজুড়ে ইমরান খানের পরিচিতি বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কাম একজন ‘সেলিব্রেটি প্লেবয়’ হিসেবে।  সেই ইমরান খানই রাজনীতির ধারায় হয়ে উঠেছেন পাকিস্তানের ধর্মীয় রক্ষণশীল ঘরানার এক জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ।

১৯৯৬ সালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতির বিশৃঙ্খল মাঠে পা রাখেন ইমরান খান। এরপর থেকে ব্যক্তিগত বিভিন্ন ইস্যু আর জাতীয় ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে পাকিস্তান অনেক কারণেই আলোচিত, বর্তমানে পাকিস্তানের রাজনীতিতে জঙ্গিবাদের পুনর্বাসনও বেশ চোখে পড়ার মতো। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদকে ভোটে দাঁড়ানোর ছাড়পত্র দিয়েছে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন। সাঈদ মুম্বাই হামলায় মোস্ট ওয়ান্টেড আসামী। নির্বাচনে তারা কোনো আসন না পেলেও খোলাখুলি রাজনীতির সুযোগ নানা শঙ্কা তৈরি করেছে।

এছাড়া ইমরানের তালেবানপ্রীতি সবার জানা। বেশি সমালোচনার শিকার হয়েছেন সামি উল হকের সঙ্গে নির্বাচনী জোট বেঁধে। সামি উল হক ‘তালেবানদের পিতা’ নামে পরিচিত। এছাড়া নির্বাচনের আগে পিটিআইকে আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ জঙ্গিদল হরকত-উল-মুজাহিদীনের সমর্থন করেছে।

ইমরানের তৃতীয় ও বর্তমান স্ত্রীর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিপত্নীক একজনকে পাকিস্তানের জনগণ তাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত নাও করতে পারেন, এমন আশঙ্কার জায়গায় বুশরা ভাল একটি সমাধান বলে অনেকে ধারণা করেছেন নির্বাচনের আগে। নির্বাচনি কোনো প্রচারণায় ইমরানের সঙ্গে বুশরাকে দেখা যায় নি, তবে সেসময় ইমরান বলেছিলেন, নির্বাচনে জিতলে বুশরা কোন আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না।

শুরুতে ইমরানের সাথে বুশরার বিয়ে নিয়ে শোরগোল চলছিল পাকিস্তানে। ইমরান এসব ‘ভুয়া’ খবর বলে উড়িয়ে দেন। এমনকি মামলাও করেন কিছু সংবাদ চ্যানেলের বিরুদ্ধে।

বুশরারর আগের স্বামীর নাম খাওয়ার ফরিদ মানেকা, তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ কাস্টম অফিসার। ইমরানের সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে বুশরার সাবেক স্বামী পাকিস্তান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘একদিন বুশরা এসে আমাকে জানান, তিনি মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর কাছ থেকে স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন। সেখানে নবী (সা.) নিজে এসে বুশরাকে বলেছেন ইমরানকে বিয়ে করার জন্য। তাহলেই নাকি ইমরান সমস্ত বাধা পেরিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। এবং সেটা হলে পাকিস্তান এই জর্জরিত অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে ও অসাধারণ দেশে উন্নীত হবে।’

বিয়ের কিছুদিন পরে বুশরার সঙ্গে ইমরানের তালাক হয়েছে বলেও গুজব ছিলো।

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরানের প্রথম স্ত্রী জেমাইমরা গোল্ডস্মিথ। ব্রিটিশ ধনকুবের পরিবারের জেমাইমার সঙ্গে ইমরানের বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে। ২০০৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। ইমরান ২০১৫ সালে সাংবাদিক রিহাম খানকে বিয়ে করেন। এ বিয়ে টেকে মাত্র ১০ মাস।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ