সাময়িক বরখাস্ত কয়লাখনির এমডি হাবিব উদ্দিন

0
16

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দিন আহমেদকে সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত) করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে বুধবার খনি দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খনির বর্তমান ও সাবেক সব ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার এক দিনের মাথায় হাবিব উদ্দিন আহমেদকে সাসপেন্ড করা হলো। এর আগে ১৯ জুলাই হাবিব উদ্দিন আহমেদকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পেট্রোবাংলায় সংযুক্ত করা হয়েছিল।

এ ছাড়া খনি কর্তৃপক্ষের সাবেক এমডি কামারুজ্জামান, এস এম নূরুল আওরঙ্গজেব ও আমিনুজ্জামানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। আওরঙ্গজেব মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনির এমডির দায়িত্বে রয়েছেন। কামারুজ্জামান হলেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কম্পানির (আরপিসিএল) এমডি।

এদিকে বিবিসি বাংলা জানায়, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা চুরির কেলেঙ্কারি সপ্তাহখানেক আগে ফাঁস হয়ে পড়ার পর সরকারের শীর্ষ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চুরি ও দুর্নীতির মামলা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খনির চারজন শীর্ষ কর্মকর্তার দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

কিভাবে ফাঁস হলো এই দুর্নীতি :

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি এবং স্থানীয় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই কয়লা চুরির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের প্রথম টনক নড়ে জুন মাসে যখন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়লা সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। যন্ত্রপাতি স্থানান্তর করতে জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে খনির উত্পাদন কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকবে—এ খবর পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

জানা গেছে, খনি কর্তৃপক্ষ তখনো আশ্বাস দিয়েছিল, যথেষ্ট মজুদ তাদের রয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতি মতো কয়লা সরবরাহ করতে না পারায় জুলাইয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়।

পরপরই জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত করা হয়। তখনই কর্তৃপক্ষ টের পায়, কলার প্রয়োজনীয় মজুদ আদৌ নেই। জুলাইয়ের মাঝামাঝি যখন সেই তদন্ত রিপোর্ট বের হয়, তখন দেখা যায় ২০০৫ সাল থেকে বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উত্পাদন এবং সরবরাহের হিসাবের মধ্যে বিস্তর ফারাক। কাগজ-কলমে এই ফারাক এক লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন। অর্থাৎ ১৩ বছর ধরে খনি থেকে কয়লা চুরি হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, যেহেতু চীনা একটি কম্পানিকে কয়লা উত্তোলনের জন্য ফি দিতে হয়, সে জন্য উত্পাদনের হিসাবটি পেট্রোবাংলাকে কড়ায়-গণ্ডায় রাখতে হয়। সে কারণেই তদন্তে হিসাবের গরমিল সহজে ফাঁস হয়ে যায়।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here