মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় রাজাবাবুর দাম ২০ লাখ !

0
266

আব্দুস ছালাম সফিক, মানিকগঞ্জ ঃ রাজাবাবু একটি ষাঁড়ের নাম। তাকে দেখতে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় খান্নু মিয়ার বাড়িতে ভিড় করছে লোকে। প্রতিদিনই বাড়ছে উৎসুক জনতার ভিড়। কেউ কেউ এটির সামনে সেলফি তুলতে ব্যস্ত। যতœ আর আদরে বেড়ে উঠেছে সে।

রাজাবাবুর বয়স তিন বছর ১০ মাস। উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি। ৮ ফুট লম্বা। বুকের মাপ ১০ ফুট। প্রায় ৫২ মণ। লোকে দেখে অবাক হয় আর জানতে চায়, কী খাইয়ে ষাঁড়টিকে এত বড় করলেন খান্নু মিয়া। খান্নু মিয়া জবাব দেন, ভেজাল কিছুই খাওয়াই না। চিঁড়া, গুড়, আপেল, মাল্টা, মিষ্টিকুমড়া, ভুসি, খড়, সবরিকলা, বিচিকলা ও ছোলা দিই প্রতিদিন।

সাটুরিয়ার প্রাণিসম্পদ বিভাগও নজর রেখেছে রাজাবাবুর ওপর। বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন মো. সেলিম জানান, রাজাবাবু হলস্টাইন ফ্রিজিয়াম জাতের গরু। সামনের পা থেকে কুঁজ পর্যন্ত ধরে এর উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি। দৈর্ঘা মাপা শুরু লেজের গোড়া থেকে। মাথা পর্যন্ত গিয়ে ৮ ফুট হয়। ওজন ৫২ মণের কম হবে না। কেজিতে ২০৮০ কেজি।


খান্নু মিয়ার বাড়ি সাটুরিয়ার দিঘুলিয়া ইউনিয়নের দেলুয়া গ্রামে। ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হওয়ার পর এ গ্রামের অনেক কৃষকই গরুর খামার করেছেন। ছোট ছোট খামার। বাড়ির উঠানেই। খান্নু মিয়া তাঁদেরই একজন। জানালেন, দুই বছর আগে কিনেছিলেন রাজাবাবুকে। চার লাখ টাকা দিয়ে। এক বছর ১০ মাস বয়স ছিল তখন। এবারের কোরবানির হাটে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করার টার্গেট নিয়েছেন।

রোববার ছিল সেদিন। খান্নু মিয়ার বাড়ি গিয়ে দেখি রাজাবাবুকে গোসল দেওয়া হচ্ছে। খান্নু মিয়ার মেয়ে ইতি বেগম গোসল দিচ্ছেন রাজাবাবুকে। সাহায্য করছেন তাঁর মা পরিষ্কার বেগম। বেশ বড়সড় টিনশেডের গোয়ালঘর। রাজাবাবুসহ খান্নু মিয়ার সাতটি গরু। বাড়ির সবাই মিলে গরুর খামার দেখাশোনা করেন। খামারের আয় দিয়েই পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।

ইতি বেগম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গরু লালন-পালনের কাজ করি মা-বাবার সঙ্গে। বড় বোনদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার আগে তাঁরাও বাবাকে সাহায্য করতেন। গত বছর এসএসসি পাস করার পর সাভারের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু লালন-পালনের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছি।