প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া..

0
49

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার দস্তমপুর গ্রামের বাসিন্দা হেমন্ত কুমার(পঁচ)কে জনসম্মূখে রামদা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছিলেন ৯নং সেনগাঁও ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার নারায়ন চন্দ্র রায়। একটি আম বাগানকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার(১১/০৯/২০১৮)দুপুরে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুলিন চন্দ্র রায়ের আম বাগানে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলো। এই খবর পেয়ে সাবেক মেম্বার নারায়ন চন্দ্র রায়(৩৫) ও তাঁর দলবল দেশী অস্ত্র হাতে বাগানে কর্মরত শ্রমিক হেমন্ত কুমার(পঁচ) এর উপর হামলা চালায়। নারায়ন হাতে রামদা উঁচিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেন শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে।

নাম না প্রকাশের শর্তে একজন শ্রমিকরা যখন দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে গিয়েছিল। ঠিক ঐ সময় নারায়ন মেম্বার ও তাঁর দলবল অস্ত্র হাতে, শ্রমিকদের লাশ ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। নারায়ন রামদা উঁচিয়ে চিৎকার করে বলেন, “যে বেটা বাগানে আসবে তাঁর লাশ ফেলে দেবো। রক্তের বন্যা বইয়ে দেবো”।

শ্রমিকরা খাওয়া শেষে আবার কাজ করার জন্য বাগানে আসলে নারায়নের তোপের মুখে পড়েন। শ্রমিকদের সাথে বাকবিতন্ডতার এক পর্যায়ে, নারায়ন হেমন্ত কুমার(পঁচ)কে রামদা দিয়ে কোপ মারার চেষ্টা করেন। হেমন্ত কুমার(পঁচ) তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে বাঁচানোর জন্য বাগানের ভিতরে ঢুকে পড়েন।

ঘটনার সত্যতা জানার জন্য হেমন্ত কুমার(পঁচ)এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুধু অস্ত্র নিয়ে ধাওয়াই দেওয়া হয়নি ফোনেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। হেমন্ত কুমার(পঁচ)বলেন, সে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

খবর পেয়ে কুলিন চন্দ্র রায়ের পক্ষ থেকে সাহায্যের জন্য পীরগঞ্জ থানায় কর্মরত ওসির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ওসির নাম্বারে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে হেল্প লাইন ৯৯৯ এ যোগাযোগের মাধ্যমে পীরগঞ্জ থানার ওসির কাছে ঘটনার বিবরণ জানানো হয়।এরপরপীরগঞ্জ থানা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উপস্থিত জনতা দৃষ্টি নিউজের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের কাজে তারা খুশি নয়। তারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কেন না, একজন সাবেক মেম্বার তাঁর ক্ষমতার বলে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মানুষকে খুন করার জন্য বুক ফুঁলিয়ে বেড়াবে আর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শুধু হাজিরা দিয়ে যাবে এটা তারা কখনোই আশা করেননি। তারা নারায়নের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ওসির সাথে কথা বললে জানা যায়, বিষয়টি ৯৯৯ নাইনের মাধ্যমে তাঁকে(ওসি)জানানো হয়। দৃষ্টি নিউজ যখন প্রশ্ন করেন আপনার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু আপনার নাম্বারে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নেটওয়ার্কের কারনে এমনটা হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে।

বাগানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে,গত ১/৯/২০১৮ইং রোজ শনিবার আনুমানিক বিকাল পাঁচ ঘটিকায় বাগানের মালিক কুলিন চন্দ্র রায়সহ তাঁর পরিবারকে প্রকাশ্যে লাশ ফেলে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন নারায়ন চন্দ্র রায় ও তাঁর সহযোগীরা।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য দৃষ্টি নিউজ’র একটি বিশেষ টিম এলাকায় গেলে অনেকে সাবেক মেম্বার নারায়নের ভয়ে মুখ খুলতে চায়নি। দৃষ্টি নিউজ ঘটনাটি নিয়ে কথা বলেন কুলিন চন্দ্র রায়ের সাথে। তিনি জানান, নারায়ন চন্দ্র রায়সহ আরও ৫ জনকে তিনি এই জমিটি (আম বাগান) ১৩ বছরের জন্য ৭ লক্ষ টাকায় খাইখালাসি দেন।

গত ১/৭/২০১৪ইং হতে পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে সব টাকা পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ ১/৭/২০১৭ইং তারিখের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হবে এই মর্মে লিখিত করা হয়। কুলিন চন্দ্র রায় বার বার নির্ধারিত তারিখের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে বলেন। এতে তারা নানান অজুহাত দেখায়। পরিশেষে উক্ত তারিখ অতিক্রম করলেও তারা টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে কুলিন চন্দ্র রায় বলেন, হাতে তো টাকা পাইনি বরং আমি টাকা চাইলে নারায়ন আমার কথাকে হেয় করেন আর উল্টো চৌরঙ্গী বাজারে মিথ্যা ছড়াতে থাকেন।

কুলিন চন্দ্র রায়কে কোন প্রকারের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই, নারায়ন চন্দ্র রায় ও তাঁর সহযোগীরা ডেকে নেন এবং উপস্থিত সকলের সামনে প্রাণ নাশের হুমকি দেন। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেদিনের ঘটনার বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না। নারায়ন চন্দ্র রায় ও তাঁর সহযোগীরা যে মিটিং ডেকেছে তিনি তাও জানেন না। তবে ঘটনা ঘটার পরের দিন কুলিন চন্দ্র রায়ের ছেলে কৌশিক কুমার রায়(রাজীব) বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন।

স্থানীয় মেম্বারের সাথে কথা বললে তিনিও একই কথা বলেন, তবে চৌরঙ্গী বাজারের দূর্গা পূজা মন্ডবে ঘটনাটি ঘটেছে এটি তিনি নিশ্চিত করেছেন। কৌশিক কুমার রায়(রাজীব)তাঁর সাথেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাগানের টাকা সঠিক সময়ে দিতে না পারায় কুলিন চন্দ্র রায় ও নারায়ন চন্দ্র রায়ের মধ্যে একটি ঝামেলার সৃষ্টি হয়। সেটাকেই কেন্দ্র করে নারায়ন উপস্থিত জনতার সামনেই অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে কুলিন চন্দ্রকে গালিগালাজ করতে থাকেন এবং প্রকাশ্যে, প্রাণনাশের হুমকি দেন।

তাদের ভাষ্যমতে, নারায়ন চন্দ্র রায় বলেন, “বেটা তোর লাশের উপর দিয়ে হলেও আমি বাগানে যাবো। সামনে আসলে তোর আমি হাত পা কেটে নিবো। বাগানে ঢুকতে আমাকে বাঁধা যেই দিবে তার লাশ ফেলে দেবো।”

ঘটনার সত্যতা জানার জন্য চৌরঙ্গী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্র নাথ রায়ের সাথে কথা বলা হয়। তিনি ঘটনাটিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষে স্বীকার করেন।

পীরগঞ্জ থানায় এ নিয়ে একটি সাধারন ডায়রি করা হয়েছে।জিডি নং-১৬৭ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গেল মঙ্গলবার (০৪/০৯/২০১৮ইং) কৌশিক কুমার রায় পীরগঞ্জ থানায় ১. নারায়ন চন্দ্র রায় (৩৫), পিতা :মৃত- রবেন্দ্র নাথ(দস্তমপুর)২.বাবু অনিত্য রায়(৪০)পিতা:মৃত-দিনবন্ধু রায়(মছলন্দপুর),৩.রাজকুমার রায়(৩০)পিতা:মৃত-তিরিশ চন্দ্র রায়(মছলন্দপুর),৪.দিলীপ চন্দ্র রায়(৩৫)পিতা:মৃত-অমুল্য চন্দ্র রায়(আগ্রা)উপরোক্ত ব্যক্তিদের নামে অভিযোগ এনে একটি সাধারন ডায়রি করেন।

থানায় কথা বলে সাধারন ডায়রির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সূত্র:দৃষ্টিনিউজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here