রোগী আছে, সেবা নেই !

0
37

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ রোগী আছে, কিন্তু চিকিৎসার তবুও বেহাল দশা। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এলেও চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা পায় না। এমন ঘটনা লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় বেহাল দশা, নেই কোন চিকিৎসা সেবা, নেই কোন অক্সিজেন। নেই কর্তব্যরত চিকিৎসক।

ব্রাদারস দিয়েই চলে ইমার্জেন্সির জরুরী বিভাগ। ১শ শয্যা এই হাসপাতালে প্রতিদিনেই শত শত রোগীর ভীর থাকলেও চিকিৎসা সেবা না পেয়ে চলে যেতে হয় রংপুরে বিভিন্ন হাসপাতালে কিংবা ক্লিনিকে। ডাক্তারেরা সঠিকভাবে করেন না তাদের দায়িত্বপালন। ২৪ঘন্টায় মাত্র একবার বা ২বার দেখা মিলে হাসপাতালে রোগীদের পাশে। প্রতিদিনেই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না পেলে অকালে মৃত্যুর কাছে পরাজিত হতে হয় অসংখ্য মানুষকে। পাটগ্রাম হাসপাতাল হতে রংপুরে হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে নেয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয় তাদের। তাহলে সরকারের প্রতিদিনের এতো টাকা কোথায় যায়? এরা কারা?

কর্তব্যরত একাধিক ব্রাদারস ও নার্সের সাথে কথা হলে জানান, আমরা কি করতে পারি, আমরা সরকারের ছোট পোষ্টের কর্মচারী, যারা কর্মকর্তা তাদেরকে তো কেউ বলে না আপনারা এতো ফাঁকি দেন কেন, কে শুনে কার কথা। ক্ষমতা যার রাজ্য তার। গাছের মাথায় যদি পোকা থাকে তাহলে কি করে গোরা ভাল থাকবে? এক সময়ে দেখবেন পুরোটাই মরে যাবে। হাসপাতালে ঔষধের তালিকায় থাকা ঔষধগুলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কি করার আছে? আমাদেরকে কর্তৃপক্ষ যেভাবেই রোগীর সেবা করতে বলেন আমার সেভাবে করি, যেসব ঔষধ আমাদের কে দেয়া হয় আমরা সেগুলোই রোগীর হাতে তুলে দেই। আর ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে যেটা বেশী দরকার সেটা রোগী বাহিরের দোকান থেকে কিনে আনেন বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি পাটগ্রাম হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে কুচলিবাড়ীর আব্দুস সালাম, পাটগ্রাম ইউনিয়নের নজর উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন। স্ট্রোক করায় প্রিয় ভাইটিকে নেয়া হয় পাটগ্রাম হাসপাতালের জরুরী বিভাগে সেখানে বৃথা চেষ্টা.. অক্সিজেন চলে না । ওনারা নিতে বললেন, সাবেক বগুড়া ক্লিনিক বর্তমান সীমান্ত ডায়াগনস্টিকে… হাসপাতাল থেকে সেখানে যেতে অক্সিজেন লাগাতো সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ মি. । প্রিয় ভাই জুল একরাম বাচ্চু ঢলে পড়ল মৃত্যু মুখে। চলে যান না ফেরার দেশে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনোয়ারা বেগম এপ্রতিনিধিকে জানান, হাসপাতালে ডাক্তার থাকে না, সঠিকভাবে কোন চিকিৎসা নাই, এখানে আমরা বেকার পড়ে আছি, কেউ খবর নেয় না, সারাদিনে দুই বার দেয় বড়ি, কোন স্যালাইন নেই, বাহিরের থেকে কিনে দিতে হয়, ঠিকভাবে খাবারও দেয় না, যে খাবার দেয় এগুলো আমরা বাড়িতে একটা ফকিরকেও খাওয়াই না। পাতলা ডাল আর আধা হওয়া তরকারি।

জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, কোনো প্রকার প্রাথমিক চিকিৎসার উপায় মেলেন। এমনিতেই দেখে মোছামুছির পর প্রেসক্রিপশন করে দেয় বাহির হতে ঔষধ কিনে নিয়েন। এভাবে এতো রড় একটা হাসপাতাল চলতে পারে না। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কোথায়? এরা দেখে না এগুলো।

এব্যাপারে হাসপাতালে কর্মকর্তা ডাঃ হাসনাত উসুব জাকি জানান, আমার হাসপাতালে কোন রকমে অনিয়ম বা ফাকি দেয়ার সুযোগ নেই, আমি এখানে জয়েন্ট করার পর থেকে সব ঠিক আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here