মিথ্যার রাণী অং সান সু চি

0
121

ভিয়েতনামে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশ নিয়ে নানা ধরণের মনগড়া ও অসত্য কথা বলেছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেবার ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশকে দোষ দিয়েছেন নোবেলজয়ী ওই নেত্রী।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও জানুয়ারিতে এই প্রক্রিয়া শুরু করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত ছিল না।’

বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। নিশ্চয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ দায়িত্বশীলদের এই বক্তব্য চোখে পড়েছে, এবং তারা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করবেন এ বিষয়ে।

ওই ফোরামে অংশ নিয়ে মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেয়ার পক্ষেও সাফাই গেয়ে কথা বলেছেন সু চি।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো জাতিগত নিধনের সংবাদ সংগ্রহে অনুসন্ধানের সময় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে গত ৩ সেপ্টেম্বর ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয় মিয়ানমারের একটি আদালত।

নোবেলে শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নেত্রী বরাবর রোহিঙ্গাদের বিষয়ে এবং সম্প্রতি এই সাংবাদিকদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার জন্য চাপের মধ্যে ছিলেন। অবশেষে একতরফা বক্তব্য দিয়ে উৎসুকদের চাহিদা পূরণ করলেন তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের একটি সমঝোতা হলেও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি। প্রথম অবস্থায় সাড়ে তিন হাজারের মতো রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হবে বলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হচ্ছে না। এরইমধ্যে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত জমায়েতে সু চি’র বক্তব্য চিন্তার কথা।

বাংলাদেশে সারাবছর জুড়েই নানা চলমান কর্মযজ্ঞের সঙ্গে সঙ্গে নানা রাজনৈতিক-সামাজিক উৎকণ্ঠা রয়েছে, এরইমধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু একটি স্থায়ী উৎকণ্ঠায় রূপ নিয়েছে। পুরোপুরি মানবিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় অসহায় ওইসব রোহিঙ্গাকে দেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের একতরফা আচরণ সব ধরণের বৈশ্বিক শিষ্টাচার ও নিয়মনীতির সরাসরি লঙ্ঘন। বিষয়গুলো আমাদের ভাবাচ্ছে। আমাদের আশাবাদ, নানা ধরণের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দরকার হলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার মধ্যে দিয়ে হলেও বিষয়টি সমাধান হবে।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ