শিবগঞ্জে গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ॥ প্রকাশ্যে ঘুরছে ধর্ষক

0
65

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারক পুর ইউনিয়নের রানী বাড়ি সাহেব গ্রামে এক গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত মামলা গ্রহণ করে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছেন।

ধর্ষণের বিচার চেয়ে ধর্ষণের শিকার গৃহবধু সমাজের বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছে ধর্ণা দিলেও কোন কাজ না হওয়ায় অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদিকে গৃহবধু ধর্ষণের পর বিষয়টি সমাধানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দিনের পর দিন সময় অতিবাহিত করে বীরদর্পে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ধর্ষক শিবগঞ্জ উপজেলার একই এলাকার রাণী বাড়ি সাহেব গ্রামের আব্দুল লতিবের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন(২৭)।

জোরপূর্বক ধর্ষণ করার পর ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধু ওই গ্রামের এজাবুল হকের ছেলে মো. শরিফ উদ্দিনের স্ত্রী ও ধাইনগর ইউনিয়নের গুপ্তমানিক গ্রামের মুনিরুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মোসা. সাবানা বেগম (২৩) তালাকপ্রাপ্ত হয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

জানা গেছে, এবছরের গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাতে (রাত আনুমানিক দেড় টা) শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের রানী বাড়ি সাহেব গ্রামের এজাবুল হকের ছেলে মো. শরিফ উদ্দিনের স্ত্রী মোসা. সাবানা বেগম(২৩)কে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে শরিফের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীক পার্টনার ও বন্ধু।

কু-পরিকল্পনা করে আনোয়ার ঘটনার আগের রাতেই ব্যবসায়ীক কাজের কথা বলে জেলার বাইরে পাঠায়। পরিকল্পনা মতোই শরিফের স্ত্রী সাবানাকে ধর্ষণের জন্য আনোয়ার গভীর রাতে শরিফের বাড়ি যায় এবং কাজের কথা বলে ঘরের দরজা খুলতে বলে।

সাবানা কিছু না বুঝে উঠার আগেই আনোয়ার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। রাতেই সাবানার চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসে, তবে ততক্ষনে ধর্ষক আনোয়ার পালিয়ে যায়। শরিফ পরদিন সকালে এঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে বাড়ি এসে সাবানা বেগমকে তালাক দেয়। এঘটনার পর বিষয়টি সমাধানের জন্য সাবানা ও তাঁর পরিবার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছে বার বার ধর্ণা দিলেও ধর্ষক পরবর্তীতে সাবানাকে বিয়ের করে বিষয়টির সমাধান করবে বলে সময়ক্ষেপন করতে থাকে। একের পর এক সালিশের আয়োজন হলেও ধর্ষক আনোয়ার বা তার পক্ষের কোন লোক হাজির না হয়ে ধর্ষক ও তার পরিবারকে হয়রানী করতে থাকে।

উপায়ান্তর না দেখে এঘটনায় ধর্ষিতা গৃহবধু সাবানা বেগম বাদি হয়ে গত ৯ আগস্ট ধর্ষক আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামীসহ আরো ৩জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-১১৫/১৮।

অন্য আসামীরা হচ্ছে, মোবারকপুর ইউনিয়নের রানীবাড়ি সাহেব গ্রামের মৃত ফাকু মোড়লের ২ ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও মো. আব্দুল লতিব এবং একই এলাকার মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে মো. বাবুল (৩৫)। আদালতের মামলা হওয়ার পরও ধর্ষক প্রকাশ্যে ঘুর বেড়াচ্ছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের ১১৫/১৮ নম্বর মামলা সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষক আনোয়ার হোসেন ও ধর্ষিতার স্বামী শরিফের সাথে ব্যবসায়ী সর্ম্পক থাকায় তাদের বাড়ি যাতায়াত করতো আনোয়ার। সেই সুবাদে গত ৩০ জুলাই মো. শরিফ উদ্দিনকে ব্যবসার উদ্দেশ্য করে জেলার বাইরে পাঠায় আনোয়ার হোসেন।

ওইদিন ধর্ষিতা গৃহবধু সাবানা বেগমকে ধর্ষক আনোয়ার হোসেন প্রথমে কু-প্রস্তাব দেয় এবং তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে ও তার অপর ৩ সহযোগি সহায়তায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। মামলায় বাদি উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তার স্বামী শরিফকে ব্যবসায়ী কাজে বাইরে পাঠানোর পর ধর্ষক আনোয়ার দেশী অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে শরিফের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

বিষয়টি বিচারের আশায় শিবগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে গেলে থানা পুলিশ ধর্ষিতার অভিযোগ গ্রহণ করেন নি। একান্ত বাধ্য হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন ধর্ষিতা। এই মামলার প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ লিয়াকত আলী মোল্লা গত ৪ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ থানা পুলিশকে আদেশের অনুলিপি প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে প্রাথমিক তথ্য বিবরণী দেয়।

এছাড়া, বাদির অভিযোগ বর্তমানে মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও গ্রেফতার করছে না পুলিশ। এনিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে সাবানা ও সাবানার পরিবার। এব্যাপারে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার এস.আই আরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামী ধর্ষক আনোয়ারসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের তৎপরতা চালাচ্ছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো বলে আশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here