আমিরাতের জালে বাংলাদেশের ৭ গোল

0
39

শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের মেয়েদের বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দল।

প্রতিপক্ষ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলক সহজ দল। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে আগের দুই ম্যাচে বাহরাইন ও লেবাননের জালে ১৮বার বল জড়ানো বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর। তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ কিশোরীদের দিকে তাই উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়েই তাকিয়ে ছিল লাল-সবুজের ফুটবল সমর্থকরা। গ্যালারিতেও ছিল সরব উপস্থিতি, উড়েছে পতাকা। হতাশ করেনি গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। মরুর দেশের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়টা এসেছে বড় ব্যবধানেই।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে এমন বড় জয়ে গ্রুপ ‘এফ’ থেকে সেরা হওয়ার লড়াইয়ে সমান সমান অবস্থানে আছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। তিন জয়ে দুই দলেরই সংগ্রহ সমান ৯ পয়েন্ট করে। গোল ব্যবধানও সমান ২৫। বাছাইপর্বের গ্রুপসেরা ছয় দল জায়গা পাবে মূলপর্বে। পাশাপাশি এ ছয় গ্রুপের সেরা দুই রানার্সআপের সামনে খুলবে মূলপর্বের দরজা। তাই গ্রুপপর্ব থেকে সেরা হওয়ার লড়াইয়ে রোববার বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের ম্যাচটি এখন অলিখিত ফাইনাল।

শুক্রবার দিনের প্রথম ম্যাচে লেবাননকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভিয়েতনাম। ম্যাচে জয়ের সঙ্গে গোলব্যবধান বাড়ানোর অদৃশ্য এক চাপই সৃষ্টি হয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েদের ওপর। সেই চাপ কমানোর পথে আরব আমিরাতের মেয়েদের পায়ে পারতপক্ষে বলই যেতে দেয়নি লাল-সবুজ কিশোরীরা।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিট থেকেই শুরু আক্রমণের। যার ধারাবাহিকতায় পাঁচ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার নিলুফার ইয়াসমিন নীলার শট প্রতিপক্ষের বার কাঁপিয়ে বাইরে গেছে সামান্য উঁচু দিয়ে।

অবশ্য পরের মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। ষষ্ঠ মিনিটের মাথায় আরব আমিরাতের ডি-বক্সে তহুরা খাতুন ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পরের মিনিটে স্পটকিকে গোলের খাতা খোলেন শামসুন্নাহার সিনিয়র।

এরপর ১০ মিনিটের ব্যবধানে আনুচিং মগিনির জাদুতে ব্যবধান ৪-০তে নেয় বাংলাদেশ। শুরুটা ২৬ মিনিটে। নিয়মিত অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার অনুপস্থিতিতে অধিনায়কের ভার সামলানো আঁখি খাতুনের ক্রসে মাথা ছুঁয়ে গোলের খাতা খোলেন রাঙামাটির মগিনি পরিবারের ছোটজন। পরে ৩৫ মিনিটে বড় বোন আনাই মগিনির পাসে আসা বল হেডে জালে জড়িয়ে নিজের গোলসংখ্যা জোড়ায় রূপান্তর করেন আনুচিং।

এক মিনিট পরেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আনুচিং। এখানেও বড় বোন আনাইয়ের অবদান। ৩৬ মিনিটে আনাইয়ের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক বদলে বাতাসে থাকা অবস্থায় দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিকে বল জালে জড়ান বাংলাদেশ জার্সি নাম্বার টেন।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই স্বাগতিকদের ব্যবধান গিয়ে ঠেকে ৫-০তে। এখানে অবদান অবশ্য প্রতিপক্ষ মিডফিল্ডার আলিয়া হুমাদের। যোগ করা সময়ে তার হেড নিজেদের জালে ঠাই নিলে ভিয়েতনামের সঙ্গে বাংলাদেশের গোলব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২’এ।

পরের ৪৫ মিনিটে একহালি সহজ গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে মাত্র এক গোল দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ছোটবোন আনুচিংকে দিয়ে জোড়া গোল করানো বড় বোন আনাই নাম লেখান গোলের খাতায়। ৭২ মিনিটে এ ডিফেন্ডারের সরাসরি নেয়া শট আরব আমিরাত গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জালে ঠাই নিলে হাফডজন গোল পূর্ণ হয় বাংলাদেশের।

আর এক গোল হলেই ভিয়েতনামকে ধরে ফেলবে স্বাগতিকরা। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচের একদম শেষমূহুর্তে জাল খুঁজে নিয়ে ব্যবধানটা ভিয়েতনামের সমান করেন বদলি ফরোয়ার্ড ইলামনি। অধিনায়ক আঁখির হেড প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি শটে গোল করতে ভুল করেননি ইলা।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here