পাকিস্তানকে উড়িয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

0
23

এশিয়া কাপের অলিখিত সেমি ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৭ রানের দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। শেষ চার আসরের মধ্যে তিনবারই ফাইনালে বাংলাদেশ। শিরোপাযুদ্ধে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে মাশরাফিবাহিনী।

কবজির চোটে তামিম ইকবালের এশিয়া কাপ শেষ হয়েছে প্রথম ম্যাচের পরই। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দেশের বিমান ধরেন সাকিব আল হাসানও। দুই অন্যতম প্রধান অস্ত্রবিহীন বাংলাদেশ তবুও লড়াকু। বুধবার আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ম্যাচসেরা মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুনের ব্যাটে ২৩৯ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে মুস্তাফিজ-মিরাজদের বোলিংয়ের মুখে ২০২ রানেই থামতে হয় পাকিস্তানকে।

২৪০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের বোলিংয়ের বিপক্ষে শুরু থেকেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে হয়েছে পাকিস্তানকে। বল হাতে যে শুরু করেছিল তারা, সেটাই দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে তাদের ব্যাটিংয়ের সময়। জুনায়েদ খান ও শানেহ শাহ আফ্রিদির মতো দাপট দেখিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস লণ্ডভণ্ড করে দেন মুস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

১৮ রানেই তিন উইকেট তুলে নিয়ে ফাইনালে ওঠার পথটা তখনই সুগম করে তুলেছিলেন মুস্তাফিজ ও মিরাজ। কিন্তু এরপর ইমাম উল হকের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। এই জুটি পাকিস্তানকে ৮৫ রানে পৌঁছে দেয়। এমন সময় উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া শোয়েব মালিক চড়াও হতে চাইলেন। কিন্তু রুবেল হোসেনের বলে তার নেওয়া শট হাওয়ায় ভেসে তালুবন্দী করে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি।

৩০ রান করে বিদায় নিতে হয় শোয়েবকে। মুস্তাফিজ-মিরাজদের বোলিংয়ের সামনে বাকিটা সময় ধুঁকে ধুঁকে ব্যাটিং করেছে পাকিস্তান। যে কারণেই ইমাম উল হকের সংগ্রামী ৮৩ কিংবা আসিফ আলীর ৩১ রান পাকিস্তানকে জয়ের কাছে নিয়ে যেতে পারেনি। তাদেরকে থেমে যেতে হয় ২০২ রানে। ৪৩ রান খরচায় ৪টি উইকেট নেন মুস্তাফিজ। মিরাজ ২টি এবং রুবেল, মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য একটি করে উইকেট পান।

এরআগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ আরও একবার শুরুতেই দিক হারিয়েছে। বাংলাদেশের টপ অর্ডার চেনা চেহারাতে থেকে উপহার দিয়েছে কেবলই হতাশা। ১২ রানের মধ্যেই সাজঘরে সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক ও লিটন কুমার দাস। এই তিন ব্যাটসম্যানের ঘাতক পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার জুনায়েদ খান ও শাহেন শাহ আফ্রিদি।

বিশেষভাবে বলতে হবে জুনায়েদ খানের কথা। পাকিস্তানের এই পেসারের দাপটে শুরুতেই বিপাকে পড়া বাংলাদেশ ইনিংসের শেষেও ধুঁকেছে। তার আগুনঝরা বোলিংয়ের কারণেই মুশফিকুর রহিমের ৯৯ রানের দারুণ ইনিংসের পরও বাংলাদেশকে থামতে হয় ২৩৯ রানে। পুরো ইনিংসজুড়ে বাংলাদেশকে ভোগানো জুনায়েদ ৯ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচায় তুলে নেন চার উইকেট।

১২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন মহাসঙ্কটে। ঠিক এমন অবস্থায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হাল ধরেছিলেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুন। এই ম্যাচেও এ দুজন হয়ে উঠলেন ত্রাতা। পাকিস্তানের বোলারদের নিমেষেই পথ ভুলিয়ে দিয়ে মুশফিক-মিথুন যে জুটি গড়ে তুললেন, সেটা দীর্ঘ হলো ২৯.২ ওভার। স্কোরকার্ডে এই জুটির অবদান হিসেবে জমা হয় ১৪৪ রান।

ততক্ষণে দুজনই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। আর বাংলাদেশ ছাড়িয়ে গেছে দেড়’শ রানের সীমানা। এমন সময় যেন অবসাদ পেয়ে বসে মিথুনের কাঁধে। উড়িয়ে মারতে গিয়ে বোলার হাসান আলীর হাতেই ধরা পড়েন ৮৪ বলে ৪টি চারে ৬০ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস খেলা মিথুন। এরপর ইমরুল কায়েস দ্রুত ফিরেছেন।

তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ম্যাচসেরা মুশফিক। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে আরও কিছুটা পথ পাড়ি দেন এশিয়া কাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পথে থাকা বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু বাংলাদেশকে পথ দেখিয়ে এগিয়ে নেওয়া মুশফিককে মাঠ ছাড়তে হয় রাজ্যের হতাশা নিয়ে। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। ১১৬ বলে ৯টি চারে ৯৯ রানের ইনিংসটি সাজান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনবদ্য ১৪৪ উপহার দেওয়া মুশফিক।

বাকিটা সময় জুনায়েদ খান, শাহেন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলীদের বিপক্ষে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে বাংলাদেশের বাকি ব্যাটসম্যানদের। রান তুলতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। মাহমুদউল্লাহ ৩১ বলে ২৫ রান করেন। এরপর মিরাজের ১২ ও মাশরাফির ১৩ রান বাংলাদেশকে পৌঁছে দেয় ২৩৯ রানে। পাকিস্তানের জুনায়েদ খান ৪টি এবং শাহেন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলী ২টি করে উইকেট নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here