জাতিসংঘ-মিয়ানমার চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর (ভিডিও)

0
52

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণসহ মিয়ানমার সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কথা জাতিসংঘে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের যে চুক্তি হয়েছে, তার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে (স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৭৩ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ নারী হিসেবে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় মারিয়া ফের্নান্দা এসপিনোসা গার্সেসকে অভিনন্দন জানান। জাতিসংঘ মহাসচিবের অঙ্গীকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সহযোগিতা থাকবে জানিয়ে বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্ব প্রদানের জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবকে অভিবাদন জানান শেখ হাসিনা।

বাংলা ভাষায় টানা দশমবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে বাংলাদেশকে বলা হতো দুর্যোগ, বন্যা-খরা-হাড্ডিসার মানুষের দেশ, তা এখন বিশ্বশান্তি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে চমক সৃষ্টি করেছে।’


‘বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ তার দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের ছাপিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আমাদের পথচলা এখনো শেষ হয়নি। এ পথচলা ততদিন চলবে যতদিন না আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা এবং শোষণমুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’

দ্রুত রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের যে চুক্তি হয়েছে, তার বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা দেখতে চাই। এ জাতীয় ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও টেকসই সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’

মিয়ানমারকে প্রতিবেশী দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে মিয়ানমার মৌখিকভাবে সবসময়ই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা সাধ্যমতো খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, শিশুদের যত্নের ব্যবস্থা করেছি।’ এ কাজে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসিসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।