বাল্যবিয়ের কুফলঃ স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ল কলি !

0
32

শরীয়তপুর প্রতিনিধ: দ্রুত বেড়ে ওঠা। সুঠাম দেহের অধিকারী। দেখতে সুন্দর। এমন মেয়েদের পড়ালেখার চাইতে বিয়েতে সুযোগ বেশী। এর ছোঁবল থেকে রক্ষা পায়নি স্কুল ছাত্রী কলি। পয়সাওয়ালা বিবাহের যোগ্য পুরুষরা এ ধরনের মেয়েদের বেশী পছন্দ করে। তাই মেধাবী ছাত্রীদের মেধা ১৩ থেকে ১৬ বছরের সীমানায় আটকে যায়। হয়ে যায় পয়সাওয়ালা কোন পুরুষের ঘরণী। মেধা বিষর্জণ দিয়ে পড়ালেখা ছেড়ে ছিটকে পড়ছে তারা। এ থেকে কলিও বাদ পড়েনি।

এর ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে দেশে শিক্ষিতের হার কমবে বলে ধারনা করছেন শিক্ষাবিদগণ। অভিভাবকদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষাবিদগণ বলছেন, শিক্ষিত মা ছাড়া শিক্ষিত জাতি কল্পনা করা অসম্ভব।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী কলি আক্তার। এ বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহনের কথা রয়েছে। প্রয় মাস খানেক ধরে কলি বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত। পরীক্ষার ফরম পূরণও করেনি কলি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠিরা উদ্বিগ্ন কেন কলি বিদ্যালয়ে আসছে না? বিষয়টি বিদ্যালয় ও কলির পরিবারের সীমানা পেরিয়ে গণমাধ্যম পর্যন্ত গড়ায়। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় কলির বিয়ে হয়ে গেছে।
এ বয়সে কেন কলিদের বিয়ে হয়? এমন প্রশ্নের জবাব কী এই, “প্রকৃতি কলিদের বিপক্ষে”। উত্তরঃ- না। সমাজ ব্যবস্থা কলিদের বিপক্ষে। এখনও সমাজে প্রচলন রয়েছে মেয়েদের বেশী পড়ালেখা করে কী হবে? যত বেশীই পড়ালেখা করুক না কেন, মেয়েদের সংসার গুছিয়ে ও রান্না করেই খেতে হবে। মেয়েদের যত কম বয়সে বিয়ে দেয়া সম্ভব ততই সংসারি হবে। এ সুযোগই কাজে লাগায় পয়সাওয়ালা পুরুষরা। স্কুলে ঘুরে ঘুরে কমবয়সী সুন্দরী মেয়েদের পছন্দ করে পরিবারের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। মেয়ের অভিভাবক প্রস্তাব গ্রহন করে মেয়ের মেধা খাচায় বন্দি করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেয় ।

এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের পূর্ব সোনামুখী গ্রামে। ওই গ্রামের বোরহান মোল্যার মেয়ে কলি আক্তার (১৪) বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। বিদ্যালয়ে যাতায়তের সময় একই গ্রামের (ঢাকায় ব্যবসা করে) সালাম বেপারীর ছেলে শাকিল বেপারীর নজরে আসে কলি আক্তার। যেমন পছন্দ তেমন কাজ। কলি আক্তারের বিয়ের বয়স না হওয়া স্বত্বেও রেজিষ্ট্রীবিহীন সামাজিকতায় শাকিলের সাথে কলির বিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে কলির পিতা বোরহান মোল্যা বলে, মেয়েকে নিয়ে এলাকায় অনেক ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এলাকার বখাটে ছেলেরা আমার মেয়েকে তুলে নেয়ার পায়তার চালায়। তাই শাকিলের সাথে মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা ঠিক করে রেখেছি। বয়স পূর্ণ হলে কাবিন রেজিষ্ট্রি করে বিয়ে দিব। কলি বিদ্যালয়ে যায় না কেন? জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাকিলের পিতা সালাম বেপারী বলেন, ছেলে মেয়ের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তাই বাধ্য হয়ে বিয়েতে রাজি হয়। মেয়ের বয়স কম তাতো মেয়ের বাবা আমাদের বলেনি। তাছাড়া এ বিয়েতে আমরা রাজি ছিলাম না।

বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আ. কুদ্দুছ খান বলেন, বাল্যবিবাহ ও ইন্টারনেট লেখাপড়া শূণ্যের কোটায় পৌঁছে দিয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে কম বয়সেই ছেলে-মেয়েরা ইচরে পাকা হয়ে গেছে। পড়ালেখায় মনযোগ হারিয়ে বিয়ের দিকে ঝুঁকে। পশ্চিমা কালচার পর্ণছবি নিয়ন্ত্রন না হলে শিক্ষার্থীরা মেধা শূণ্য হয়ে যাবে। আগামী ৫ বছর পরেই এর প্রভাব লক্ষ করা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here