জাজিরার স্কুল শিক্ষিকা হত্যার দায় আদালতে স্বীকার !

0
79

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ জাজিরা উপজেলার বড় মূলনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুবিনা ওরফে রুমা আকতার হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। রোববার শরীয়তপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে গ্রেফতারকৃত আসামী মেহেদী হাসান খুনের কথা করে স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে।

গ্রেফতারকৃত অপর আসামী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে তমি কামালকে ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী ৪ অক্টোবর রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য্য করেছে আদালত। পুলিশ জানিয়েছে অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

জাজিরা থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার বড় মূলনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকিা রুবিনা আকতার ওরফে রুমা হত্যার ঘটনায় জড়িত নিহতের বোন জামাই সাজ্জাদ হোসেন ওরফে তমি কামাল বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জাজিরার মাঝিরঘাট এলাকা থেকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ গ্রেফতার করে।

এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তমি কামালের ভাতিজা মেহেদী হাসান কে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে রুমাকে হত্যার কথা স্বীকার করে। গত রোববার পুলিশ মেহেদী হানসান কে শরীয়তপুর চীফ জডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করে।

আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নিজাম উদ্দিনের নিকট আসামী মেহেদী হাসান রুবিনা আকতার ওরফে রুমাকে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দেয় । জবানবন্দীতে তিনি বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত অনুমান ২টায় নিহত রুবিনার বোন জামাই জাজিরা উপজেলা যুবলীগের যুগ্নআহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে তমি কামালের নিজস্ব বসতবাড়ির দালানের মধ্যে কামাল, মেহেদী হাসান সহ মোট ৫জনে মিলে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে শ্বাসরোধ করে রুবিনা আকতার কে হত্যা করে ঘরে রেখে দেয়। পরদিন শনিবার রুবিনার আতœীয় স্বজন তাকে খোঁজাখুঁজি করে জাজিরা

থানায় একটি সাধারন ডাইরী করে। এ সংবাদের পর খুনিরা শনিবার গভীর রাতে লাশ নিয়ে রুবিনাদের বাড়ীর পিছনে বাশঝাড়ের ভিতর দাড় করে ওড়না দিয়ে বাশের সঙ্গে লাশ আটকে রাখে। স্বীকারোক্তিতে মেহেদী আরো জানান , রুবিনার বোন জামাই তমি কামাল দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর যাবত রুবিনার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। রুবিনার সকল ব্যাংক বীমা সহ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তমি কামাল জড়িত রয়েছে।

২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বড়মূলনা গ্রামের ইতালী প্রবাসি আক্তার হোসেন মল্লিকের সঙ্গে রুবিনার বিয়ে হয়। এরপর থেকে রুবিনা কামালকে সরিয়ে দিয়ে তার দেয় টাকা পয়সা ফেরত চায়। এ নিয়ে তমি কামাল রুবিনার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এ ঘটনার জের ধরে তমি কামাল রুবিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

আদালত মেহেদী হাসান এর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। গ্রেফতারকৃত খুনের মূলহোতা নিহত রুবিনার বোন জামাই তমি কালকে ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরন করলে আদালত আগামী ৪ অক্টোবর রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। এ ঘটনায় জড়িত অপর ৩ আসামীকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ থাকে যে, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বড় মুলনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুবিনা আকতার রুমা মধ্যরায়ের কান্দি গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে জাজিরা সদরে যায়। এরপর সে বাড়ি ফিরেনি। স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করে তার কোন সন্ধান না পেয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সামসুল হক মুন্সি জাজিরা থানায় একটি সাধারন ডাইরী করে।

২৫ সেপ্টেম্বর বাতাসে লাশের দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বাশঝাড়ের ভিতর রুবিনার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশ খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সামসুল হক মুন্সি বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

মামলার বাদী নিহতের ভাই সামসুল হক মুন্সি বলেন, আমার বোনকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার চাই। আমার ধারনা মেহেদী হাসানের মা এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য উদঘাটন হবে।

এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ওসি (তদন্ত) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দীন সেক বলেন, রুবিনা হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই আসামীকে গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে। এরমধ্যে আসামী মেহেদী হাসান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে। অপর মূলহোতা তমি কামালের রিমান্ড শুনানি ৪ অক্টোবর। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।