স্মৃতি আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের বিচারের দাবীতে সখিপুরে মানববন্ধন

0
20


শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর হাজী শরীয়ত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মেধাবী ছাত্রী সায়মা আক্তার স্মৃতির আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে তার সহপাঠিরা। বুধবার সকাল ১০টায় সখিপুর থানার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে স্মৃতিকে আতহত্যা করতে যারা প্ররোরচিত করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করা হয়।

মানববন্ধন থেকে স্মৃতির ভগ্নিপতি শাহাদাত হোসেন বেপারী বলেন, উপজেলার চরভাগা শনিকান্দি গ্রামের ইতালী প্রবাসী বাচ্চু মালের মেয়ে স্মৃতি। স্মৃতি এবার হাজী শরীয়ত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদশ শ্রেনীর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। কলেজে যাতায়াতে সময় একই গ্রামের বাদশা বেপারীর ছেলে ইসমাইল বেপারীর সাথে স্মৃতির প্রেমের সম্পর্ক হয়। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক বজায় থাকার পর স্মৃতি ও ইসমাইলের প্রেমের সম্পর্কে টানাপরেন দেখা দেয়।

এদিকে ইসমাইলের বন্ধু ভূট্টু মোল্যার ছেলে শাহিন স্মৃতিকে পছন্দ করে এবং প্রেমের প্রস্তাব দেয়। স্মৃতি শাহিনের প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় শাহিন স্মৃতির সাবেক প্রেমিক ইসমাইলের সাথে হাত মেলায়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে স্মৃতির সাবেক প্রেমিক ইসমাইলকে সাথে নিয়ে শাহিন তার বন্ধু ইরন মোল্যা ও জসিমসহ কৌশলে স্মৃতির ঘরে প্রবেশ করে। ওই সময় স্মৃতিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ইসমাইলের সাথে স্মৃতির আপত্তিকর ছবি তোলে।

এ সময় শাহীন মোল্যা স্মৃতির মাকে হুমকি দিয়ে বলে, “আপনার মেয়েকে আগামীকাল সকাল ৮টার মধ্যে আমার সাথে বিয়ে না দিলে এ ছবি ইন্টারনেটে প্রচার করব। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে বিষপানে স্মৃতির মৃত্যু হয়।

মানববন্ধন থেকে হাজী শরীয়ত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাফর আজিজ, সহপাঠি ফাহিম মাহমুদ, মরিয়ম, জুবায়েদা আফরিন রিয়া জানায়, স্মৃতি আমাদের সহপাঠি ছিল। স্মৃতি খুব মেধাবী ও ভদ্র মেয়ে ছিল। স্মৃতিকে আত্মহত্যা করতে যারা বাধ্য করেছে তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, স্মৃতি আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী ও স্মৃতির সাবেক প্রেমিকা ইসমাইল বেপারীর নামে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। মামলা তদন্তাধীন আছে। আসামী গ্রেফতার ও রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here