ধামরাইয়ে, যে কারণে পড়ালেখা করবেনা সুলায়মান !

0
110

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার ধামরাই উপজেলার আমতা সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র সুলায়মান (৭) প্রধান শিক্ষকের পিটুনির ভয়ে পড়া লেখা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে আমতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীর বাংলা ক্লাশ নিতে এসে প্রধান শিক্ষক মোঃ মোশারফ হোসেন ছাত্র ছাত্রীদের কাছে পিপিঁলিকা বানান জানতে চাইলে সঠিক উত্তর দিতে না পাড়ায় আঠার বিশ জন শিক্ষার্থীকে কে চর থাপ্পড় মারেন।

তাদের মধ্যে একজন জোয়ারআমতা গ্রামের হত-দরীদ্র মোঃ সাদেক আলীর ছেলে সুলায়মানও ছিলো। সুলায়মানের দাদী পরস্কিারনেছা (৬৫) অভিযোগ করে বলেন, আমার অবুঝ নাতীকে তার কান সহ মাথায় হেড স্যার অন্তত চারটি সজোরে থাপ্পর মেড়েছে, ফলে সুলায়মানকে আমতা ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

সরকারী সু-স্পস্ট নির্দেশনা লংঘন করে এহেন কান্ডের বিষয়টি নিয়ে স্থাণীয় অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তুস বিরাজ করছে। বর্তমানে সুলায়মান আগের চেয়ে কানে কম শুনে ও অসস্থি বোধ করে, স্যারে আবারো মাড়তে পারে তাই সে আর পড়া লেখা করতে চায়না। প্রতিবেশী দাদা মুগুর আলী (৭০) বলেন, সুলায়মান গরীব মানুষ আবার বয়সে শিশু তাই তাকে না মেরে বেশী করে বুঝানো দরকার ছিলো, বা হালকা মারা যেত শেখানোর কৌশল হিসেবে তা না করে গুরুতর আঘাত ঠিক হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের সাথে কথা কললে ঐ দিন ক্লাসে সুলায়মান সহ অনেক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে স্বীকার করে নিয়ে বলেন, বিষয়টি অভিভাবক দের সাথে নিয়ে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ শাহজাহান সিরাজ হতাশা ব্যাক্ত করে বলেন, দীর্ঘদিন পদ খালী থাকার পরে মোশারফ সাহেবকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম, কিন্তু তিনি নানা রকম ঝামেলা পাকিয়েই যাচ্ছেন, সুলায়মান সহ শিক্ষার্থীদের উপর উনার আচরণ ভাল হয়নি।

ব্যপারটি নিয়ে ধামরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রাশেদ মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি, তার পরেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।