মনগড়া তথ্য দিয়ে গুজব রটাতো এসকে টিভি

0
34

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে নিউজ সংগ্রহ করে নিজেদের মতো করে মনগড়া তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটাতো ইউটিউব ভিত্তিক অনলাইন চ্যানেল এসকে টিভি।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) মো. সারওয়ার বিন কাশেম এসব কথা বলেন।

শুক্রবার রাতে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টর থেকে ইউটিউব চ্যানেল এসকে টিভির দু’জনকে আটক করে র‌্যাব-১। এসময় তাদের কাছ থেকে কম্পিউটারের বিভিন্ন সরঞ্জামসহ দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবে এসকে টিভি নামের চ্যানেলটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নামে সংবাদ ও ভিডিও আপলোড করে আপত্তিকর মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচারণা করছিল। দুই বছর ধরে এই চ্যানেল পরিচালনা করে আর্থিকভাবে লাভ হয়েছেন এডমিন মো. খালেদ বিন আহমেদ। তার সঙ্গী মো. হিজবুল্লাহ দেড় বছর ধরে এই অনলাইন চ্যানেলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। খালিদ নিজেই ভয়েস দিত এবং সহযোগী হিজবুল্লাহ তা সংগ্রহ করে এডিটের মাধ্যমে ইউটিউবে আপলোড করত।

‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি খালেদ বিন আহমেদ জানান, তিনি এসকে টিভির এডমিন, দুই বছর ধরে এই অনলাইন টিভি পরিচালনা করে আর্থিকভাবে লাভ হয়েছেন তিনি। খালিদ দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বাবা নূর আহমেদ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের একটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক।’

খালিদ ২০০৬ সালে মধ্য বাড্ডার আলাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০৮ সালে হাজিগঞ্জ দেশগাঁও ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ২০১৪ সালে সে হাজিগঞ্জ আইডিয়াল কলেজে বিবিএতে ভর্তি হয়। এসময় তিনি হাজীগঞ্জের একটি বেসরকারী স্কুলে পার্ট টাইম চাকরি নেয় এবং ছয় মাস চাকরি করে।

২০১৬ সালে খালিদ তার ছোটভাই গোলাম মাওলা নাহিদের মাধ্যমে ইউটিউব ভিডিও আপলোড, এডিটিং করার কাজে যুক্ত হয়। খালিদ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের কর্মী এবং তার বাবা মো. নূর আহমেদ জামায়াতে ইসলামী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

সারওয়ার বিন কাশেম জানান: আরেক আসামি মো. হিজবুল্লাহর বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের কৃষ্ণপুরে। তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সে। তার বাবার নাম মো. নোমান দেওয়ান। রাজধানীর উত্তরখানে নোমানের প্লাস্টিকের ব্যবসা রয়েছে।

হিজবুল্লাহ ২০১৩ সালে মডেল একাডেমি দেইচর ফরিদগঞ্জ থেকে এসএসসি ও ২০১৫ সালে হাজিগঞ্জ মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। পড়াশুনার পাশাপাশি কিছুদিন শাহজাদপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করত।

র‌্যাব-১ এর সিও জানান: নাজিবুল্লাহর এক বন্ধুর মাধ্যমে খালিদের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে খালিদ তাকে এ কাজ করার প্রস্তাব দেয়। তারপর থেকে নাজিবুল্লাহ প্রায় দেড় বছর ধরে এই ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে জড়িত আছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন: অনলাইনের যে নীতিমালা রয়েছে সে মোতাবেক কোনো লাইসেন্স তারা দেখাতে পারেনি।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here