গোসাইরহাটে নিরাপদ পান উৎপাদন প্রকল্পের টাকা হরিলুট !

0
237

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ জেলার একমাত্র গোসাইরহাট উপজেলায় পান চাষীদের জন্য নিরাপদ পান উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কর্মসূচির প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গত অর্থবছরের ৩ জুন জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। গোসাইরহাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সেই কর্মশালায় অংশগ্রহন করে। সেখান থেকে গোসাইরহাট উপজেলায় নিরাপদ পান উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারনে ৪টি প্রদর্শনীর জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পায়। তৎকালীন গোসাইরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার বিধান রায় ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার অনিরুদ্ধ দাস ভূয়া প্রদর্শনীর তালিকা করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে। সরেজমিন ঘুরে গোসাইরহাটে এমন কোন প্রদর্শনীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি পান চাষী সহ এলাকাবাসীর নজরে আসে। জনমনে ক্ষোভের বিস্ফোরিত হয়। এক পর্যায়ে গণমাধ্যম কর্মীরাও জানতে পারে। প্রকল্পের তথ্য জানতে একাধিকবার গোসাইরহাট উপজেলা কৃষি অফিসে যায় প্রতিবেদক। কৃষি অফিস কোন তথ্য দিতে রাজি হয়নি। এক পর্যায়ে শুধু সুবিধাভোগী পান চাষীদের নামের তালিকা দিতে রাজি হয়।

সেই তালিকা থেকে জানা যায় উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের হলইপট্রি গ্রামের আবুল কাশেম শেখের পুত্র আবু আলম শেখ, নলমুড়ি ইউনিয়নের চরমনপুরা গ্রামের আমির আলী হাওলাদারের পুত্র শাজাহান মিয়া, ধীপুর গ্রামের নয়ন খানের পুত্র গিয়াস উদ্দিন খান ও একই গ্রামের রাস মোহন পালের পুত্র গৌতম চন্দ্র পালকে প্রদর্শনী পান চাষ সুবিধা দেয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেক পান চাষীর ঠিকানায় গিয়ে প্রদর্শনী পান চাষের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় নাই।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হলইপট্টির আবু আলম শেখের কোন অস্তিত্ব নাই। তার প্রদত্ত মোবাইল ফোনে কথা বলে জানা যায় সে রাজবাড়ীর জেলার বাসিন্দা। কোন আবু আলেম শেখ সম্পর্কে তার ধারণা নাই। কথা হয় চরমনপুরার শাজাহান মিয়ার সাথে। তিনি জানায়, গত রোববার কৃষি অফিসার কল্যান কুমার সরকার এসেছিল। গত বছরের কার্তিক মাসে যে পান বরজ তৈরী করেছে সেই বরজের সাথে সাইনবোর্ড টাঙ্গাইয়া রেখে গেছেন। অপর সুবিধা ভোগী গিয়াস উদ্দিন খান পান চাষী হিসেবে অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস পূর্ববর্তী কৃষি অফিসার বিধান রায়ের উপর দায়দায়িত্ব বর্তাইয়া নিজে কৌশলে বারবার আলোচনার বিষয় এড়িয়ে যায়। এ বিষয়ে বর্তমান কৃষি অফিসার কল্যান কুমার সরকার বলেন, এ উপজেলায় ৩২০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। প্রদর্শনী প্রকল্প প্রকৃত পান চাষীই পাবে। প্রকল্পের টাকা যদি প্রকৃত পান চাষী পায় তাহলে আপত্তি নাই। এ বিষয়ে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রিফাতুল হোসাইন বলেন, ডিপার্টমেন্ট থেকে আমার কাছে জেলার পান চাষ সম্পর্কে জানতে চায়। আমি গোসাইরহাট উপজেলার কথা জানিয়ে দেই। গোসাইরহাটে এ প্রকল্প আমিই দিয়েছি। প্রকল্পে যে অনিয়ম হয়েছে তা আমি ডিপার্টমেন্টকে জানাব। আমি সবই শুনেছি। আমিতো উপজেলা কর্মকর্তাকে বলিনি তোমার উপজেলায় পান বরজে বরাদ্দ আছে আমার সাথে দেখা কর। তাহলে অনিয়ম হবে কেন?