এইচএম এরশাদ নেতাকর্মীদের সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন: আবুল কালাম মজুমদার

0
18

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় পার্টির (এরশাদ) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী আবুল কালাম মজুমদার বলেছেন, জাতীয় পার্টিরচেয়ারম্যান, সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ (এইচএম এরশাদ) ২৮ বছর ধরে প্রত্যেক নেতা কর্মীদের সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন। আর জাতীয় পার্টির শাসন আমল ছিল দেশের স্বর্ণ যুগ, তাই জাতীয় পার্টিকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন এলাকার মানুষের পাশে থেকে তাদের আশা-আকাঙ্খার কথা রজনেছি। স্বাধ্যমত তাদের সেবা করেছি। তাই এবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ চাইলে আমি কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে এমপি হতে পারবো, ইনশাআল্লাহ। আর আমি বিগত দিনে দলীয় কর্মকান্ড ও আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা পালন করেছি।

তাই দল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আর আমি সারা জীবন মানুষের কল্যাণে ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এ জন্য সকলের দোয়া ও আর্শিবাদ কামনা করছি। সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও তিনি নি¤েœ উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর দেন।

প্রশ্ন – জাতীয় পাটিতে আপনার পদ কি? কিভাবে জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে আসলেন?

উওর- আমি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। আমি জাতীয় ছাত্র সমাজ, চৌদ্দগ্রাম কলেজ কমিটির থেকে রাজনীতি তে আসা পরে চৌদ্দগ্রাম থানা কমিটি, জাতীয় যুব সংহতি এর পরে জেলা জাতীয় পার্টি, জাতীয় তরুণ পার্টি, জাতীয় মুক্তিযোদ্বা প্রজন্ম পার্টি, সর্বশেষে আমাকে এরশাদ স্যার জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়োগ দিয়েছেন।

প্রশ্ন – রাজনীতি বাইরে কি অন্য কোন সংগঠনের সাথে জড়িত?

উওর- হ্যাঁ আমি শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করি পাশাপাশি ‘চৌদ্দগ্রাম শিল্পাঞ্চল বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে চৌদ্দগ্রাম ভিওিক একটা সংগঠনের মাধ্যমে চৌদ্দগ্রামের বেকারের কর্মসংস্থানে জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

প্রশ্ন – জাতীয় পার্টি রাজনীতি কেন করেন বা বাংলাদেশের অন্য দলের চাইতে বিশেষ কোন দিকটার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আপনি জাতীয় পার্টি করছেন?

উওর- আসলে প্রথমে না বুঝেই জাতীয় ছাত্র সমাজে কাজ করা শুরু করলাম। পরে নিজের একটা বন্ধু সার্কেল ও দলীয় সার্কেল সৃষ্টি হয় তারপর কলেজে সুবিধা বন্চিত ছাত্র/ছাত্রীদের সুবিধা আদায়ে কাজ করতে করতেই একটা ভাল লাগা তৈরি হয়ে যায়। পরে সাবেক প্রধামমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদের সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ পাই বিভিন্ন সময়ে কাজী জাফর আহম্মদের সাথে ঘুরাফেরার সুযোগ পাই। এই বিষয় গুলি আমি খুব এনজয় করতাম। এবং ব্যক্তি জীবনে ও কাজী জাফর আহমদ এর নির্দেশ, পরামর্শ আমার বেঁচে থাকতে ও রাজনীতি করতে সহায়তা করে। জাতীয় পাটির রাজনীতি আমার দেখা সর্বোত্তম সরকার আজ কি সত্যি রাজনীতি আছে? আমার মনে হয় না। এছাড়াও আজ ২৭/২৮ বছর রাজনীতি করছি পার্টি অফিসের স্টাফ সহ দলের সব নেতা কর্মীদেরকে মনে হয় আপন ভাইয়ের মত এদের ছেড়ে কই যাব? এখানে সবাই যতটা চিনেন, সম্মান করেন বা বুঝেন আমাকে মোট কথা অন্য কোথাও এডজাস্ট হতে পারবো বলে মনে হয়না।

প্রশ্ন- জাতীয় রাজনীতি তে আপনার দলীয় চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টি রাজনীতি কতটা সঠিক আপনি মনে করেন?

উওর- ১০০% সঠিক আমি মনে করি। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হয়ে আমার কাছে যে বিষয় টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বলে আমি মনে করি ‘এরশাদ স্যার’ নব্বইয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত দলীয় নেতা কর্মী দের নিজের সন্তানের মত আগলে রেখেছেন। কোন নেতা কর্মী নব্বইয়ের পর কোন রাজনৈতিক মামলা পড়েছেন? মনে হয়না এরজন্য স্যারকে সারা দেশের জনগণ ভাল চোখে দেখেন নি। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে যদি বলি এটার জন্য আমি গর্ববোধ করি এবং আমি জানি ও বিশ্বাস করি স্যার আমাদেরকে সন্তান তূল্য ভালবাসেন এইজন্যই নিজে সব বাধা, সমালোচনা উপেক্ষা করে নেতা, কর্মীদের দিকে উনার দৃষ্টি। নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে থেকেও আমাদের কে আগলে রেখেছেন।

প্রশ্ন – আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কি মনোনয়ন চাইবেন এবং কতটা আশাবাদী আপনি? কতটা নিশ্চিত মনোনয়ন পাওয়ার জন্য।

উওর- নিশ্চয়ই চাইবো। সত্যি বললে আশাবাদী তবে মনোনয়ন পাওয়ার বিযয়ে ১% গ্যারান্টি আছে বলে মনে হয় না। তবে নিশ্চিত করে একটা কথা বলতে পারি যে কোন ভাবেই হোক মাঠে থাকতে চাই এবং জোটে নির্বাচন হলে জোটের অংশিদারিত্ব দিতে হবে। খুব দূঃখের ব্যাপার আওয়ামী লীগ আমাদের মূল্যায়ন করেন না বরং উপহাস করেন সবসময়।

প্রশ্ন – আওয়ামী লীগ নেতা মুজিব ভাইয়ের কাছ থেকে কি আপনারা অবহেলিত হয়েছেন?
উওর- না মুজিব ভাইয়ের কাছে আমি কখনও কোন প্রয়োজনে যাইনি তাই উপহাস করেন কিনা এটা বলা যাবে না। তবে মূল্যায়ন পাবো না এটা মনে করে কখনও যাইনা।

প্রশ্ন – আপনি কি এলাকায় কাজ করছেন বা দল থেকে কি কোন সিগন্যাল পেয়েছেন?
উওর- হ্যাঁ কাজ করে যাচ্ছি। মোখিক ভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশনা পেয়েছি। তবে কোন ভাবেই কোন টাকা লুটপাট করা নেতা কে মেনে নেয়া হবেনা। মানবো কেন? বাকী টা সময় কথা বলবে।

প্রশ্ন – স্হানীয় জাতীয় পার্টির নেতারা আপনাকে চায়না এ বিযয়ে আপনার মতামত কি?

উওর- যারা আমাকে চান না তারা বুঝতে পারে আমি থাকলে তাদের দোকান দারী ভাল ভাবে হবেনা। যে নেতাকে দিয়ে ভালভাবেই দোকান দারী হবে তাদেরকে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক।

প্রশ্ন – স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আপনার বিযয়ে অনুভূতি কেমন?

উওর- ভালো নয়, আর আওয়ামী লীগ কি মনে করলো এটা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথাও নেই। গত দশ বছরের মহাজোট শাসন আমলে আমরা কিছুই পাইনি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। আমি বলবো আওয়ামী লীগকে এই দৃষ্টি ভংগী ঠিক নয়। মহাজোট থাকলে এ দৃষ্টিভংগী থেকে বের হয়ে আসতে হবে। নয়তো মহাজোটের বিদ্রোহী প্রার্থী ও আসতে পারে।

প্রশ্ন – আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
উওর-
আপনাকে ও ধন্যবাদ। পাশাপাশি আমি আপনার মাধ্যমে চৌদ্দগ্রামের জনগন কে বলবো আমি সাধারণ গরীবের সন্তান আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিবেন আশাকরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here