শরীয়তপুরে সাংবাদিকে হত্যার হুমকিদাতাকে পিস্তলসহ গ্রেফতার !

0
52

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে শরীয়তপুরে কর্মরত ৩ সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দিয়েছে এনামুল হক সরদার নামে এক সন্ত্রাসী। বুধবার সকার সারে ৯টার সময় সদর উপজেলার বিনোদপুর কাজী কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দৈনিক জনকন্ঠ ও একুশে টেলিভিশনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি আবুল বাশার এর অভিযোগের ভিত্তিতে কাজী কান্দি গ্রামের সুলতান সরদারের ছেলে হুমকিদাতা এনামুল হক সরদারকে পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ।

পালং মডেল থানা ও বাদীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসামী এনামুল হক সরদার বিনোদাপুর কাজী কান্দী গ্রাম হয়ে মাহমুদপুরের সাথে সংযোগ কার্পেটিং সড়ক থেকে সরকারের ৭৬টি গাছ কেটে নিচ্ছে। সংবাদ পেয়ে শরীয়তপুরে কর্মরত জনকন্ঠ ও একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক আবুল বাশার, দৈনিক হুংকার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক বর্তমান পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি খোরশেদ আলম বাবুল এবং দৈনিক জনতা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে যায়।

গাছকাটা শ্রমিকের কাছ থেকে জানতে পারে বিনোদপুর চরের কান্দি গ্রামের কালাচান বেপারী রাস্তার ৭৬টি গাছ এনামুল হক সরদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে কিনেছে। কালাচান বেপারী সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে এনামুল হক সরদারের বাড়ি যায়। সরকারী গাছ বিক্রির কারন জানতে চাওয়ায় এনামুল হক সরদার অকথ্য ভাষায় সাংবাদিকদের গালমন্দ করে এবং সাংবাদিক আবুল বাশারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। সাংবাদিক আবুল বাশার জানায়, সরকারী গাছা কাটার সংবাদে সহকর্মীদের নিয়ে বিনোদপুর কাজী কান্দি যাই। সরকারী গাছ কাটার সত্যতাও পাই। গাছকাটা শ্রমিক ও স্থানীয়দের কাছে জানতে পারি স্থানীয় এনামুল হক সরদার সরকার থেকে গাছ কাটার টেন্ডার পেয়ে গাছ ব্যবসায়ী কালাচান বেপারীর কাছে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করেছে।

টেন্ডারের বিষয়ে জানতে এনামুল হক সরদারের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি চানতে চাই। এনামুল হক আমাদের সাথে কোন কথা না বলে উপজেরা প্রকৌশলী তৈয়াবুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে সংযোগ করিয়ে বলে যে গাছ কাটতে অনুমতি দিয়েছে তার সাথে কথা বলেন। উপজেলা প্রকৌশলী গাছ কাটার অনুমতির কাথা অস্বীকার করে। আপনি সরকারী গাছ কেন কেটেছেন সে বিষয়ে এনামুল হকের থেকে বক্তব্য চাই। এনামুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। সেই থেকে আমি আতঙ্কিত। স্বাভাবিক ভাবে কোন কাজ করতে পারছি না।


সরকারী গাছ কাটা মামলার বাদী ইউপি সচিব লিয়াকত হোসেন বলেন, প্রথমে পরিষদের চোকিদার পাঠিয়ে গাছ কাটতে নিষেধ করি। এনামুল কর্ণপাত করেনি। পরে গাছকাটার স্থানে গিয়ে দেখি ইতিহাসের রেকর্ড পরিমান গাছ কেটেছে। ইউএনও স্যারকে বিষয়টি অবগত করি। ইউএনও স্যার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভোয়ারকে পাঠিয়ে সরকারী সম্পত্তি নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে আমি বাদী হয়ে মামলা করছি।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, সংবাদ পেয়েই সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়ারকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এগুলো সরকারী গাছ। বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বাদী হয়ে মামলা করবে।
পলং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এনামুল হক সরদারের বিরুদ্ধে এর পূর্বেও পিস্তল উচিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ ছিল। তার পিস্তল অনেকবার থানায় আনা হয়েছে।

এবার সরকারী গাছ কেটে অন্যায় করেছে। এ বিষয়ে বিনোদপুর ইউপি সচিব বাদী হয়ে মামলা করেছে। সাংবাদিকদের পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকির বিষয়েও একটা অভিযোগ পেয়েছি। এনামুল হককে পিস্তলসহ আটক করা হয়েছে। পিস্তল জব্দ করা হয়েছে।