শৈলকুপায় ২মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুল ছাত্রী ডরিন!

0
16

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ দুই মাস হলো স্কুল ছাত্রী ডরিন (১৫) পরিবারের সাথে নেই। মেয়েটির জন্য শোকে কাতর তার মা ও বাবা। অপহরণের পর সে বেঁচে আছে নাকি তাকে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছে তা নিয়ে স্বজনরাও রয়েছে অন্ধকারে। ডরিন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের পদ্মনগর গ্রামের আলমগীর হোসেন বাদশার মেয়ে। সে কৃপালপুর আবু আহম্মেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী।

ডরিনের পিতা জানান, গত ২১ আগষ্ট প্রাইভেট পড়ার জন্য শিক্ষক সনজিত কুমারের বাড়ি যাওয়ার পথে তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি শৈলকুপা থানায় প্রবাসি নজরুল ইসলাম মোল্লার ছেলে সাজন মোল্লা ও চর রুপদাহ গ্রামের আব্দুল বারিক বিশ্বাসের ছেলে রান্নুসহ অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ এখনো আসামীদের গ্রেফতার বা অপহৃতকে উদ্ধার করতে পারেনি।

এদিকে, মামলা তুলে নিতে অপহরণকারীর পিতা নজরুল ইসলাম মোল্লা বিদেশ থেকে একের পর এক বাদীকে মোবাইলে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। দুই মাসেও স্কুল ছাত্রী ডরিন উদ্ধার না হওয়ায় পরিবারে হতাশা নেমে এসেছে। ডরিনের পিতা আলমগীর হোসেন বাদশা আরো জানান, তার মেয়ে ২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষার্থী। সে স্কুলে যাতায়াতের সময় চর রূপদাহ গ্রামের সাজন মোল্লা তার মেয়েকে উত্যক্ত করতো। কু-প্রস্তাব দিত। গত ২১ আগষ্ট তিনি বাড়ীতে না থাকার সুযোগে লম্পট সাজন রাস্তা থেকে তার মেয়েকে জোর পুর্বক তুলে নিয়ে যায়। পুলিশের তৎপরাতা নিয়ে বাদী হতাশা প্রকাশ করে তিনি দ্রুত তার মেয়েকে উদ্ধারের দাবী জানান।

তিনি আরো জানায়, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মদদে ডরিনকে গুম করা হতে পারে। আসামীরা তাকে প্রায় মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে তিনি জানান। এছাড়া প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও ডরিনকে খুজে না পাওয়ায় তার মা পারভীন বেগম বাধ্য হয়ে ঝিনাইদহের আদালতে আরেকটি গুম-হত্যার মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে পুলিশ এজাহার ভুক্ত ২নং আসামী অপহরন কারির মামা রান্নুকে গ্রেফতার করলেও সাথে সাথেই তিনি জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া হাটফাজিলপুর ক্যাম্পের তৎকালীন ইনচার্জ এস আই খাইরুজ্জামান সাজনের চাচা ও তার মা সেলিনা বেগমকে গ্রেফতার করে মোটা অংকের টাকার বিনিমিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আয়ুুবুর রহমান জানান, অপহৃত অষ্টম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী ডরিনকে উদ্ধারের সর্বাক্তক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আসামী গ্রেফতার সহ তাকে উদ্ধারের তৎপরতা অব্যাহত আছে।

ঘটনার সাথে সাজনের পরিবারের সম্পৃক্ততা থাকায় ঐদিনই তারা স্ব-পরিবারে গা-ঢাকা দেয়। অনেক খুজাখুজি করে মেয়েকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাদশা আইনের স্বরনাপন্ন হন। অসহায় পিতা বাদশা তার নাবালিকা মেয়েকে ফিরে পেতে আদালত ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here