মেয়েদের ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ যাদের

0
21

মেন্সট্রুয়াল হাইজিন বা ঋতুস্রাবকালীন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা একটি মেয়ের সুস্থ থাকার প্রধান ধাপ। সেটা নিয়েই কাজ করে একটি সংগঠন। তারা মেয়েদের নানাভাবে শেখায় কিভাবে নিজেকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

যে মেয়েটার ১৪-১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায়, সে তো আসলে ধর্ষণের শিকার হয়। এমনটাই মনে করেন কোস্ট ট্রাস্টের ফেরদৌস আরা রুমি। তাই তাদের সুস্থতার জ্ঞান ও যৌন শিক্ষাটা দেওয়া উচিত। সেটা তাদের অধিকারও। সেই জায়গা থেকেই মূলত এই ধরনের কাজ করে চলা।

তিনি বলেন, ভোলা, চরফ্যাশন ও লালমোহনে মূলত কাজ করি আমরা। ইউনিসেফের ফান্ডিংয়ে এই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য বাল্যবিবাহ বন্ধ করা। সেটা করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যেমন মেয়েদের স্কুল যাওয়া নিশ্চিত করা, সেটা নিশ্চিত করতে গেলে স্কুলে টয়লেট সুবিধা থাকতে হবে, তাদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বোঝাতে হবে। এভাবেই বিষয়গুলো একটার আরেকটার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

ভোলা, চরফ্যাশন ও লালমোহনে এসব নিয়ে কাজ করে এমন ৮০০টি ক্লাব আছে। একেকটি ক্লাবের সদস্য ৪০জন করে।  সপ্তাহে ১-২ দিন তারা একসঙ্গে বসে এবং শিশুরক্ষণ নিয়ে আলোচনা করে।

ফেরদৌস আরা রুমি জানান, বাল্যবিবাহ কিভাবে বন্ধ করা যাবে সেটা নিয়ে আলোচনা করে এসব ক্লাবের সদস্যরা।  কোনো গুরুতর সমস্যা হলে সাহায্য নেয় হেল্পলাইন ১০৯৮ নাম্বারে ফোন করে। স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ ও মাদক নিয়ে কাজ করে। ওই ক্লাব থেকেই তারা বের করে কোন মেয়েটা বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে আছে। তারপর তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করা হয়।

এসব করতে গিয়ে দেখা যায় এলাকার ৪০টি স্কুলে কোনো টয়লেট ছিলো না। সেখানে ওয়াশ প্লেস তৈরি করে দেয় কোস্ট ট্রাস্ট। একপাশে বাথরুম আর অন্যপাশে বেসিন দিয়ে দেয়া হয়। যেন মেয়েরা ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে স্কুলে আসতে দ্বিধা না করে। বিপদের সময়ে স্কুল থেকেই যেন এক দুইটি প্যাড পায় সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টাও করা হয়। অথবা কাপড় ব্যবহার করলেও যেটা ঠিক করে পরিষ্কার করা হয় সেই শিক্ষা দেওয়া হয় তাদের। স্কুলকে সেই মোটিভেশন দেওয়া হয় যেন তারা শিক্ষার্থীদের বিপদের সময়ে প্যাড সরবরাহ করে।

সংগঠনটি ৪০০ মেয়েকে অর্থনৈতিক সহায়তাও দিয়ে থাকে যারা মেন্সট্রুয়াল হাইজিন নিয়ে কাজ করবে, স্কুলে যাবে, বাল্যবিয়ে রোধ করতে সহায়তা করবে। এভাবে তাদের ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত চলবে। তাদের কিছুটা প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। যেন সেটা তারা আবার অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারে।এমনকি এই সময়ে পুষ্টি নিশ্চিত করতে কি খাবে সেই বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হয় তাদের।

২০১৪ সাল থেকে কাজ করে চলেছে সংগঠনটি। তার আগেও এসব কাজ হয়েছে বিভিন্ন নামে। সবাই কি বিষয়টা সহজভাবে নিচ্ছেন? ফেরদৌস আরা রুমি বলেন, স্বাস্থ্য, পুষ্টি আর নিজেকে রক্ষা করার বিষয়গুলো শেখানো হয় শিশুদের। আমরা যেসব এলাকায় কাজ করছি সেখানে খুব সহজভাবে নিচ্ছে। ওখান ৫০টাকায় স্থানীয় প্যাড কেনা যায়। বাবা-মাকে আমরা সেটা বলি, মাসে মাত্র ৫০ টাকা। কতদিকেই তো কত টাকা খরচ হয়ে যায় এবং তারা সেটা ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে। বিশেষ করে বাবারা। তারা বোঝেন সন্তানের সুস্থতার দিকটি। ৩২ হাজার বাচ্চা এসব পরামর্শ মেনে চলে আর আশেপাশেও সেটা বলার চেষ্টা করে। তারা নিজেরাই একসময় নিজেদের সাহায্য করে।

মূলত মেয়েদের ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতাবিষয়ে সহযোগিতা করলেও ছেলেদের নিয়েও বেশ কিছু কাজ করে চলে সংগঠনটি। কিশোর বয়সে শারিরীক পরিবর্তনগুলো নিয়ে অর্থাৎ বয়:সন্ধিকালীন শিক্ষা দেওয়া হয় ছেলেদেরও। সেখানে ছেলেদের ও মেয়ের কার কী করণীয় সেই বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়।  সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে একেবারে নির্মূল করারই স্বপ্ন দেখে কোস্ট ট্রাস্ট।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here