প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা পদ্ধতি থাকা উচিত-ড. আকবর আলী খান

0
37

কোটা কোন চিরস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা পদ্ধতি থাকা উচিত। সম্প্রতি কোটা বাতিলের আগেও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত ১ শতাংশ কোটাও যথাযথভাবে পূরণ করা হয়নি। তাই প্রতিবন্ধীদের চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ এবং অনুকূল অবকাঠামো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় নিয়ম করে সাময়িকভাবে কোটা ব্যবস্থা আরো কিছুদিন রাখা যেতে পারে।

শুক্রবার ব্র্যাক সেন্টারে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির যৌথ আয়োজনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান এ অভিমত ব্যক্ত করে। বিতর্ক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং গ্রাম বিকাশ সহায়ক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাসুদা ফারুক রত্মা। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এসএম মোর্শেদ, সাংবাদিক ঝুমুর বারী ও অধ্যাপক ড. মু. শাহ আলম চৌধুরী।

ড. আকবর আলী খান আরো বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়টিকে করুণার দৃষ্টিতে দেখার পরিবর্তে অধিকারের দৃষ্টিতে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধু সরকারি চাকরি নয়, বেসরকারি খাতেও প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, চাকুরিতে কোটার প্রয়োজন আছে। তবে একই সাথে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণের পাশাপাশি সমাজকেও প্রতিবন্ধী বান্ধব হতে হবে।

আয়োজক সংগঠন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রতিবন্ধীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আমরা মুখে যত কথাই বলি না কেনো বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন। সরকারি চাকুরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩ থেকে ৫% কোটা বরাদ্দ, জাতীয় সংসদে কমপক্ষে ২টি সংরক্ষিত আসন, প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় সময় বৃদ্ধি, চাকুরিতে আবেদনের বয়স বাড়ানো, প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করাসহ তাদের সকল অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, পরিচালক আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফ, যুগ্ম পরিচালক অভ্র ভট্টাচার্য এবং এনডিএফের চেয়ারম্যান ড. তাজুল ইসলমা চৌধুরী তুহিন।