যৌনপল্লির মেয়ে উমা আজ একজন সফল ব্যাবসায়ী

0
78

জন্ম যৌনপল্লিতে। ১৬ বছর বয়েসে বিয়ে হয় এক ব্যভিচারীর সঙ্গে। নিজের সন্তানের অধিকার পেতে সময় লেগেছিল চার বছর। সেই শুরু লড়াই। আজও থামেননি উমা।

মুনসিগঞ্জের যৌনপল্লির মেয়ে উমা আজ একজন সফল ব্যাবসায়ী। পথ দেখাচ্ছেন তাঁর মতো অসংখ্য মেয়েদের, যারা দেহ ব্যবসায় শরীরের নুন-রক্ত জল করতে চায় না আর। শুধু তাই নয়, এলাকার নানা বয়সি মেয়েদের নাচের শিক্ষিকাও ‘উমাদি’।

এক সংবাদসংস্থাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ে উমা বলেন, ‘‘উনিশ বছর বয়সে দেখেছি মহিলাদের গায়ে ছ্যাঁকা দিচ্ছে খদ্দেররা। আমার মা নিজের শরীর শেষ করেছে, কিন্তু আমায় এ পেশায় আসতে দেয়নি।’’

প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে মুম্বইয়ে চলে গিয়ে ঊমা যোগ দেন ‘আপনে আপ’ নামক একটি সংস্থায়। সেখানে তিনি স্বনির্ভরতার পাঠ নিয়ে কাজ শুরু করেন আবার মুন্সিগঞ্জে ফিরে।

মুন্সিগঞ্জ যৌনপল্লিতে নির্যাতিতা মহিলাদের ডান্স থেরাপিতে নিয়ে আসেন তিনি। তার পর তাঁদের অন্য কাজে নিযুক্ত করেন উমা। এই মুহূর্তে তিনি ২২ জন মহিলাকে একত্রিত করে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির ওয়ার্কশপ করেছেন। প্রতি দিন ২৫০ থেকে ৩০০ ন্যাপকিন তৈরি হয় সেখানে। মেয়েরা ১ টাকায় সেখান থেকে ন্যাপকিন কিনতে পারেন।

জীবনের সবচেয় স্মরণীয় দিন কোনটি, জিজ্ঞেস করলে হেসে উমা বলেন, ‘‘যেদিন হিলারি ক্লিন্টন স্বয়ং দেখা করতে এসেছিলেন।’’