পরকীয়া প্রেমে হ্যাটট্রিক করলেন মাদরাসার অধ্যক্ষ

0
71

পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে একনারীকে নিয়ে পালালেন পঞ্চগড়ের দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম কওমি মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এজাজ আহম্মেদ। এ ঘটনায় ওই মাদরাসার শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এজাজের প্রথম স্ত্রী। জানা যায় প্রথম স্ত্রীকেও একই ভাবে পালিয়ে বিয়ে করে ছিলেন।
এ ঘটনায় এজাজের প্রথম স্ত্রী পঞ্চগড় সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে প্রথম স্ত্রী আকলিমা বেগম আখি বলেন, আমার বাবার বাড়ি বগুড়া সদরের চকসূত্রাপুর এলাকায়। বিয়ের পর স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখেই ছিলাম। ঢাকার বিক্রমপুুরে স্বামীর বাড়িতে থাকতাম। মোবাইলে রংনম্বরে এজাজ আহম্মেদের সঙ্গে পরিচয় হয়। এক সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে এজাজ।
পরে সাত বছরের একটি মেয়ে সন্তানসহ আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়। বিয়ের পর থেকে পঞ্চগড়ে বসবাস শুরু করি আমরা। ভালোই চলছিল আমাদের সংসার। এর মধ্যে আমাদের সংসারে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

কিন্তু গত তিনবছর আগ থেকে এজাজের আচরণ পরিবর্তন হতে থাকে। সে কারণে-অ কারণে আমাকে মারধর করত। বাড়িতে খরচের টাকা দিত না। এমন কি সময় মতো বাড়ি ফিরতনা। এরপরই আমি জানতে পারি এজাজ আবার পরকীয়ায় জড়িয়ে গেছে।

এ নিয়ে ঝগড়া হলে ওই নারীকে বাদ দিয়ে এর কিছুদিন পর মাদরাসার একশিক্ষার্থীর অভিভাবক ও পঞ্চগড় শহরের কামাতপাড়া এলাকার দুলাল ইসলামের স্ত্রী শরীফা আক্তার মুন্নীর (৩৮) সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ায় এজাজ। তখন প্রতিবাদ করলে আমার ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। এরপর আগের নিয়মেই পরকীয়া প্রেমিকা শরীফাকে দিয়ে তার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে। কয়েক দিন আগে পরকীয়া প্রেমিকা শরীফাকে নিয়ে উধাও হয়ে যায় এজাজ।

এজাজ পালিয়ে যাওয়ায় দুটি পরিবারের লোকজন সন্তানদের নিয়ে খুব বিপদের মধ্যে আছি। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে চেয়ে চেয়ে কোনো মতে খাবার খেয়ে বেঁচে আছি। মেয়েটার স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়েগেছে।

স্থানীয়রা জানান, মাওলানা এজাজ আহম্মেদের বিরুদ্ধে এর আগেও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল। তিনি সম্প্রতি কোটিপতি বনে গেছেন। তবে এইটাকার উৎস কোথায় তা কেউ জানেননা। পঞ্চগড় শহরের কামাতপাড়া এলাকার দুলাল ইসলাম বলেন, আমার সুখের সংসার ভেঙে দিয়েছে এজাজ। আমার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছে। এজাজের শুধু চরিত্রগত দোষ নয় আরও খারাপ দিক আছে। আমি চাই তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম কওমি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুর রহমান শাহীন বলেন, একজন মাদরাসা শিক্ষকের এমন আচরণ আমাদের জন্য অত্যন্ত অসম্মান জনক। মাদরাসার পক্ষ থেকে তাকে এ বিষয়ে শোকজ করা হলেও কোনো জবাব দেয়নি।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটিরসহ-সভাপতি হযরত আলী বলেন, এজাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর শোকজ করা হয়েছে। মাদরাসার সব হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য তাকে বলেছি। কিন্তু একমাসের ছুটিতে গিয়ে এখন সে নিখোঁজ।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা চেম্বারের সভাপতি আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে শোকজ করে ছিলাম। তিনি শোকজের জবাব দেননি। মাদরাসার হিসাব ও বুঝিয়ে দেননি। তাই আমরা তাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি।

# মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম/বাংলাটপনিউজ২৪.কম #

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here