ইবি থেকে মুছে দেয়া হলো ছাত্রলীগের নাম !

0
23

ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ছাত্রলীগের নাম মুছে দিল কর্তৃপক্ষ। গত ২৮ অক্টোবর ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এই স্থগিতাদেশের সুযোগ নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়াল থেকে ছাত্রলীগের নাম মুছে দেয়াসহ কর্মীদের সকল সুযোগ-সুবিধা বাতিল করে দেয় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এসব কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ইতোমধেই সাবেক কমিটির অন্ত ৩০ জন নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্টাটাস দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিবিরের নাম ও তাদের স্লোগান মুছে ২০১৭ সালের শুরুর দিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উক্তি বিশ^বিদ্যাললেয় সীমানা প্রাচীরে লেখা হয়। ছাত্রলীগের এসব কর্মকান্ডে তখন প্রশাসনসহ সবাই স্বাগত জানায়। তবে ছাত্রলীগের সাথে বনিবনা না হওয়ায় প্রশাসনের ইন্ধনে বিশ^বিদ্যালয় কমিটির কার্যক্রম গত ২৮ অক্টোবর স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটি স্থগিতের ৩ দিনের মাথায় ১লা নভেম্বর সীমানা প্রাচীর থেকে ছাত্রলীগের নাম মুছে ফেলে প্রশাসন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বর্তমান কমিটির পদপ্রত্যাশী অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। এর মধ্যে সাবেক কমিটির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক রিজভি আহমেদ পাপন বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের চরম সমালোচনা করে লিখেন,‘ছাত্রলীগের নাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুছে দিতে চায় প্রশাসন। তারা দেওয়াল লিখন ও পোস্টার মুছে দিয়েছে। এসব কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

এছাড়াও স্থগিত কমিটির প্রভাবশালী নেতা তাসনিম ই তারিক আবির লিখেছেন,‘বঙ্গবন্ধুর নাম মুখে বলে কিন্তু তার নিজ হাতে গড়া সংগঠনকে অস্তিত্ব সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত এসব। এইসব কাজের নিন্দা জানাই।’

বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম জাগো নিউজকে বলেন,‘এ বিশ্ব বিদ্যালয়টি ছিল জামায়াত-শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট। আমরা তাদের সাথে দীর্ঘ দিন যুদ্ধ করে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছি। ওই দেয়ালে যুদ্ধাপরাধীদের উক্তি ছিল। সেসব মুছে বঙ্গবন্ধুর নাম লিখেছি। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন সজ্ঞানে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পস থেকে বিতাড়িত করার প্রয়াস চালাচ্ছে। এসবের তীব্র নিন্দা জানাই।’

এসব বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মেহের আলী জাগো নিউজকেবলেন,‘সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ও সীমানা প্রাচীরে চুনকাম করা হয়েছে। আর বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখাগুলো অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই এখন নতুন করে আবার এসব সংযোজনের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী জাগো নিউজকে বলেন,‘আমরা বর্তমান প্রশাসন অসাম্প্রদায়িক ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে ওয়াল রং করা হয়েছে। আর ছাত্রলীগের অভিযোগ সত্য নয়। এখন তারা ওয়ালে তাদের নাম লিখলে আরো প্রস্ফুটিত হবে। তাদের জন্য এখন লেখারও অবারতি সুযোগ রয়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here