জনগণের সরকার বেছে নিতেই সংলাপ : প্রধানমন্ত্রী

0
17

দেশের মানুষ তার মনমতো সরকার বেছে নিক, সেই চিন্তাটা করেই কিন্তু আমরা এই সংলাপে বসেছি এবং আলোচনা করেছি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (৩ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জেলা হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এ দেশের মানুষের যেন আর জ্বালাও-পোড়াও ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয়। দেশের মানুষ তার ভোটটা শান্তিতে দিতে পারে।’

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে নির্বাচন ও সরকার হঠানোর নামে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও অগ্নিসন্ত্রাসের নির্মমতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই সামনে নির্বাচন। সেই নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের কাছে যখন ঐক্যফ্রন্ট চিঠি দিল, তারা আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বাগত জানালাম। এত ব্যস্ততার মাঝেও। ময়মনসিংহে পাবলিক মিটিং করে এসেও আমরা আলোচনা করছি।’

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে ‘ঐক্যফ্রন্ট’ ও যুক্তফ্রন্ট’ দুটো গ্রুপের সঙ্গে মিটিং হয়ে গেছে। এরপরে আরও সবার সঙ্গে আমরা বৈঠক করব। তারা আলাপ করতে চেয়েছে, সংলাপ করতে চেয়েছে, আমরা করেছি। একটা সুন্দর পরিবেশেই আলোচনা হয়েছে। তারা যে সমস্ত দাবি দাওয়া দিয়েছে, যেসব দাবি দাওয়া আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব আমরা বলেছি, আমরা করব। তারা বলেছে, রাজবন্দিদের মুক্তি চাই। আমি বলেছি, রাজবন্দিদের তালিকা দেন। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো খুনের মামলা না থাকে, কোন ক্রিমিনাল অফেনজ তারা করে না থাকে তাহলে অবশ্যই দেখা হবে। আর আমরা তো কাউকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার করিনি। তা যদি করতাম তাহলে তো খালেদা জিয়া ২০১৫ সালে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা শুরু করল তখনই তাকে গ্রেফতার করতে পারতাম তা তো আমরা করিনি।’

খালেদার মামলার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দশটা বছর ধরে মামলা চলেছে, সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমাদের কোনোরকম দুরভিসন্ধি থাকত। এই একটা মামলা শেষ হতে তো ১০ বছর লাগার কথা না। দশ বছর ধরে মামলা চলে মামলার রায় হয়েছে সেই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। এখানে আমাদের তো কিছু করার নাই। আর বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন। স্বাধীন বিচার বিভাগ যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ে খালেদা জিয়া এখন সাজা ভোগ করছে। তারেক জিয়া ভোগ করছে। তারেক জিয়ার জন্য তো আমেরিকার এফবিআই এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে। আর খালেদা জিয়ার জন্য তার কয়েকটি কেসে সাক্ষী দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে। আন্তর্জাতিকভাবেও প্রমাণিত এরা দুর্নীতিতে জড়িত। সেখানে আমাদের করার কি আছে। তারপরও আমরা বলেছি, আপনারা তালিকা দেন। আপনারা দেখব এখানে কি করা যেতে পারে।’

ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং অধিকাংশ সময়ে তারাই কিন্তু বলেছে। আমি কিন্তু একটা কথা বলিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত এই জোটের যারা তারা কথা বলেছেন। এরপর আমাদের পক্ষ থেকে কথা। একেবারে সর্বশেষ সমাপ্তির জন্য যেটুকু বলার আমি শুধু সেইটুকুই বলেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে বলেছি, কোনটা কোনটা আমরা করতে পারি। কোনটা নির্বাচন কমিশনের, কোনটা রাষ্ট্রপতির কোনটা কীভাবে করা যেতে পারে এবং অনেকগুলো দাবি আমরা মেনেও নিয়েছি। যখন এই আলোচনা চলছে তখন আবার দেখলাম, আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে তারা। একদিকে আলোচনাও করবে আবার আরেকদিকে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে তাহলে এটা কি ধরনের সংলাপ আর কি ধরনের কথা; আমাদের কাছে বোধগম্য না। জানি না দেশবাসী ও জাতি এটা কীভাবে নেবেন।’

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here