শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকের জামিন বহাল

0
30

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব সফিকুর রহমান কিরন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব সাঈদ আহমেদ আসলাম সহ দলীয় ১৫ জন নেতা-কর্মী শরীয়তপুরের একটি মামলায় নি¤œ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। সোমবার (৫ নভেম্বর ২০১৮ ইং) তারা সহ দলীয় ১৫ জন নেতাকর্মী আইনজীবীর মাধ্যমে শরীয়তপুরের একটি মামলায় আদালতে জামিন চাইলে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৮ অক্টোবর ২০১৮ ইং শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সহ দলীয় ১৫ জন নেতা-কর্মী এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।

এদিকে, শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি সফিকুর রহমান কিরন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম জামিনের আগে ও পরে শরীয়তপুর কোর্ট এলাকায় ব্যাপক শোডাউন করেন। এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালু সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এসময় শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান’কে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। সেই চক্রান্তের ফলোশ্রুতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’কে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। সেই চক্রান্তের কারণে দেশনায়ক তারেক রহমান’কে দেশের বাইরে থাকতে হচ্ছে। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের বিরুদ্ধে এই মামলা।

তাই যেখানে আমাদের দলের নেতৃত্বরাই হয়রানির শিকার, সেখানে আমরা এই মামলার পরোয়া করিনা। তিনি আরও বলেন, বিএনপি হচ্ছে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ ৪০ বছর বিএনপি বহুবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের রায় নিয়ে। বিএনপিকে সহজেই ধ্বংস করা যাবে না, নির্মূল করা যাবে না। অতীতেও বিএনপি’কে ধ্বংসের চেষ্টাও কেউ সফল হয়নি।

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সহ দলীয় ১৫ জন নেতা-কর্মীর জামিনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, শরীয়তপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। আর তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারও দাবী করেন নেতৃবৃন্দ। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, তারা একদিনে এই দলের নেতৃত্বে আসেনি। তারা সততা ও সাহসীকতার সাথে রাজনীতি করে এই স্থানে এসেছে। তাঁদের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে থামানো যাবে না। তাই অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার দাবী করছি।

উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং দুপুরে শরীয়তপুর জেলা শহরের ধানুকায় শরীয়তপুরে বিএনপি’র ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হামলা করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। এঘটনায় শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আমির আলী সরদার বাদী হয়ে জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব সফিকুর রহমান কিরন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব সাঈদ আহমেদ আসলাম সহ দলীয় ৭৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পালং থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

এ ব্যাপারে বিএনপির নেতাকর্মী সহ শরীয়তপুর সদরের যুবদল নেতা আজাদ মাল ও নড়িয়ার ছাত্রদল নেতা রাতুল দাবি করে বলেন, আমাদের পূর্ব নির্ধারিত ও শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে। এতে প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মীকে আহত হয়।

পরে আমরা পুলিশ প্রহরায় স্থান ত্যাগ করি। আর আরও হয়রানি করার জন্য উল্টো এঘটনায় শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আমির আলী সরদার বাদী হয়ে জেলা বিএনপি’র সভাপতি সহ দলীয় ৭৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পালং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা দাবি করে বলেন, আমরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ মিছিল করে যাচ্ছিলাম। এ সময় বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী আমাদের মিছিলে হামলা করে এতে কমপক্ষে ৬/৭ জন আহত হয়। তাই আমরা বিচারের আশায় মামলা করেছি।

এদিকে, জানা যায়, শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি সফিকুর রহমান কিরন শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা, গোসাইরহাট, ভেদরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here