অনির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন নয় – জাতীয় পার্টি

0
37

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে কোনো অনির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না জাতীয় পার্টি। একইসঙ্গে প্রাদেশিক সরকারসহ আট দফা দাবি উপস্থাপন করেছে জাতীয় পার্টি।

সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে সংলাপ করেন। সংলাপ শেষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলটির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্মিলিত জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সংলাপ অত্যন্ত সফল হয়েছে। আলোচনা অত্যন্ত সন্তোষজনক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আট দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।

রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, সংলাপে আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলেছি। তবে, নির্বাচন অবশ্যই সংবিধানের আলোকে হতে হবে। কোনো অনির্বাচিত সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন চাই না, কারণ ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের তথাকথিত অনির্বাচিত সরকার লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এছাড়া ওয়ান-ইলেভেনের অনির্বাচিত সরকার মাইনাস টু ফর্মুলায় দেশের শীর্ষ নেতাদের রাজনীতির মাঠ থেকেবিতারিত করতে চেয়েছে। তিনি বলেন, একটি দলীয় বা জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের অধীনে যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে আমরা তার প্রতিশ্রুতি চাই এবং বাস্তবে তার প্রতিফলন আশা করি।

বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছি। নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করার প্রস্তাব করেছি। তবে তাদের হাতে বিচারিক ক্ষমতা থাকবে না।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ইভিএম ব্যবহারের ব্যাপারে জনমনে একটা দ্বিধা-সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি আধুনিক পদ্ধতি হলেও ভোটাররা এখনো ইভিএম ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্বাস যোগ্যতা সৃষ্টি করার পর ইভিএম ব্যবহার করা হোক। এবার ইভিএম ব্যবহার না করাই ভালো হবে।

হাওলাদার বলেন, আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া, আমাদের প্রেসিডিয়ামে আলোচনা শেষে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে একটি ছোট্ট পরিসরে আলোচনা করবো এবং দলের চেয়ারম্যান সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মধ্যহ্নভোজ অথবা নৈশভোজে অংশ নিতে তার বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সময়-সুযোগ মতো তিনি এই আমন্ত্রণে অংশ নেবেন বলেও জানান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

সংবাদ সমম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সুনীলশুভরায়, এসএম ফয়সল চিশতী, সুলেয়মান আলম শেঠ, আতিকুর রহমান আতিক, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এমএ মতিন, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, নুরুল ইসলাম নুরু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here