বুক খুলে ‘গুলি কর’ চিৎকার করা হেলমেটধারী গ্রেফতার

0
44

মাথায় ছিল হেলমেট। তাই পরিচয়টাও ছিল গোপন। তার মধ্যেই পুলিশের সামনে বুক খুলে চিৎকার ‘এসো গুলি করে মারো’। সঙ্গে সঙ্গেই উত্তেজনা। শুরু হলো হেলমেট রাজনীতি। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে এই হেলমেটধারীর এমন ঘটনা। এবার গ্রেফতার হলো এই হেলমেটধারী।

জানা গেছে, হেলমেটধারীর নাম সোহাগ ভুইয়া। তিনি শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

গ্রেফতার সোহাগের বোন সেলিনা আক্তার জানান, সকাল সাতটার দিকে রাজধানীর শনির আখড়া থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি কুমিল্লায় আমার শ্বশুর বাড়িতে ছিলাম। সেখান থেকে আমাকে রাত ২টায় পুলিশ আটক করে। এরপর রাত তিনটায় আমাকে নাঙ্গলকোট থানায় নিয়ে যায় তারা। সেখানে নিয়ে আমাকে নানারকম ভয়-ভীতি দেখানো হয়। আমার শাশুড়িকেও আটক করার ভয় দেখায় পুলিশ।

সেলিনা আরও বলেন, পুলিশ আমাকে বলেছিল, আমি যদি সোহাগের খবর না দিই তাহলে আমার বাচ্চাসহ সাত বছর জেল খাটতে হবে। আজ ভোরে তারা আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরে আমাদের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তারা সোহাগকে নিয়ে যায়।

এ দিকে সোহাগের বাবা জানান, গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সোহাগকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। তবে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রির দ্বিতীয় দিন নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে দলীয় নেতাকর্মীদের নের্তৃত্ব দেন সোহাগ ভুইয়া। পুলিশের সামনে বুক খুলে দিয়ে ‘এসো গুলি করে মারো’ চিৎকার করে সোহাগ ওইসময় উত্তেজনা তৈরি করে।

হেলমেট রাজনীতি : পাল্টাপাল্টি অভিযোগ 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে সরকার এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

অন্যদিকে একই অভিযোগ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরেরও। তিনি বলছেন, ‘বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর হামলা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র। যত যাই হোক নির্বাচন হবে।’

বুক খুলে ‘গুলি কর’ চিৎকার করা হেলমেটধারী গ্রেফতার   

এছাড়া মির্জা ফখরুল অভিযোগের তীর ছোঁড়েন আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের দিকে। তিনি বলেন, নির্বাচনের কর্মসূচিকে বানচাল করতেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নয়াপল্টনে শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রলীগকর্মীরা হেলমেট পড়ে হামলা চালিয়েছে।

তবে এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। ওবায়দুল কাদের অভিযোগে বলেছেন, ‘নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপির নেতাকর্মীরাই পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশের দুটি গাড়ি তারা পুড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচন পেছানোর জন্য এ হামলা ছিল পরিকল্পিত। হামলায় তারা শুধু নিজেদের বীরত্বই দেখালেন।’

বিএন‌পির জাতীয় নির্বাহী ক‌মি‌টির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী অভিযোগে এনেছেন সরকার দলীয় কর্মীদের অনুপ্রবেশের কথা। তিনি বলেছেন, ‘সরকার সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে আমাদের মিছিলের মধ্যে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

তবে ছাত্রলীগের ওপর বিএনপির আনা সকল অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কাজেই এই ছাত্র সংগঠন কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে না।

নয়াপল্টনের ঘটনা সম্পর্কে শোভন বলেন, হেলমেট পড়ে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঘটেছে। তাদের মনোনয়নপত্র বিক্রির কার্যক্রমের মধ্যে ছাত্রলীগের যাওয়ার তো কোনো প্রশ্নই আসে না।

বিএনপির আনা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড সবই ছাত্রদলের কাজ। এ ধরনের কাজের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই।

পাল্টা অভিযোগ রয়েছে ছাত্রদল নেতাদের পক্ষ থেকেও। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ তুলেন এসব কর্মকাণ্ড ছাত্রলীগের কাজ। তবে এই বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোনো নেতার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায় নি।