সিলেট-১, ৫, ৬, আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে ১৩ হেভিওয়েট প্রার্থী

0
50

সিলেট প্রতিনিধি : আসন্ন সাংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৪০দিন বাকি। সাধারন ভোটারদের মাঝে বইছে নির্বাচনী আমেজ। দেশজুড়ে বইছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণ আগামী ৩০ ডিসেম্বর এবং মনোনয়ন জমার শেষ দিন ২৮ নভেম্বর। সে হিসেবে মনোনয়ন জমার আর মাত্র দিন কয়েক বাকি। তবে এখন পর্যন্ত দেশের বড় দুই দল প্রার্থী ঘোষণা না করায় চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌঁড়ঝাপ।

সিলেটের ৬টি আসনে অর্ধশতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের প্রায় একডজন হেভিওয়েট নেতাও রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে তারাও কেন্দ্রে চালিয়ে যাচ্ছেন লবিং। এসব হেভিওয়েটদের নিয়ে সাধারণ ভোটারদেরও আগ্রহের কমতি নেই।

দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর)। বলা হয়, এ আসনে বিজয়ী প্রার্থীর দলই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। এজন্য এ আসনে বিজয়ী হতে বরাবরই হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়ে থাকে রাজনৈতিক দলগুলো।

সবদলই চায় এ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়ে আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে। এবারো এর ব্যতিক্রম নয়। আওয়ামী লীগ থেকে এবারও মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
দলের পছন্দের শীর্ষে থাকা অর্থমন্ত্রী মুহিত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলে তার আগ্রহ ছোট ভাই জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমনেকে নিয়ে। তিনি নির্বাচন না করলে এ আসনে মোমেনকে প্রার্থী চান তিনি। ইতোমধ্যে তিনি সিলেট ও ঢাকায় বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে তার এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন।

এ দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাড়াও আসনটিতে হেভিওয়েটদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লড়াইয়ে রয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। এছাড়া এ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছেন সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। হেভিওয়েটদের তালিকায় তিনি না পড়লেও জনবান্ধব এবং কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে তাকে হেভিওয়েট হিসেবে বিবেচনা করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

এছাড়া বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট থেকে সিলেট-১ আসনেও আলোচনায় আছেন একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী। এদের মধ্যে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের নাম আলোচিত হচ্ছে। শিগগিরই দেশে ফেরা সম্ভব হলে এ আসন থেকে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানও প্রার্থী হতে পারেন এমন গুঞ্জনও রয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার সহসা দেশে ফেরা সম্ভব নাও হতে পারে।

হেভিওয়েটের তালিকায় না থাকলেও গত প্রায় ৭-৮ বছর ধরে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক সাংসদ খন্দকার আবদুল মালিকের ছেলে ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন সাবেক সাংসদ, পূবালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও রেডক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার। হেভিওয়েট এ প্রার্থী রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকার শীর্ষে।

মজুমদার মনোনয়ন পেলে আসনটি আওয়ামী লীগের পক্ষে ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররাও। গতনির্বাচনে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ না নিলেও এবার তিনি দলটির মনোনয়ন চেয়েছেন।

এছাড়া সিলেট-৬ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থীর তালিকায় আওয়ামী লীগ থেকে আলোচনায় আছেন বর্তমান এমপি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তবে এ আসনে এবার মহোজোট থেকে সাবেক বিএনপি নেতা ও সদ্য বিকল্পধারায় যোগ দেওয়া শমসের মবিন চৌধুরী প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে সেক্ষেত্রে বিকল্পধারা মহাজোটে যোগ দেওয়ার উপর নির্ভর করবে বিষয়টি। বিকল্পধারা মহাজোটে যোগ না দিলে এ আসনে নুরুল ইসলাম নাহিদ বা কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরওয়ার হোসেনের মধ্যে একজন হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী- এমনটা মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

.