৫ দিনের রিমান্ডে হেলমেটধারীসহ ৬ জন

0
30

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের মামলায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত হেলমেটধারী মো. এইচকে হোসেন আলী ওরফে হৃদয় খানসহ ৬ জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গত ১৪ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত করা হয়।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারিকৃত নির্বাচন আচরণবিধিতে ব্যান্ড পার্টি, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিএনপিনেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল ফকিরাপুলের দিক থেকে ব্যান্ড পার্টি, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসে।

এরপর নবী উল্লাহ নবী ও কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে দুটি মিছিল শোডাউন করে একই দিকে আসতে থাকে এবং সর্বশেষ মির্জা আব্বাস আট থেকে ১০ হাজার লোকের একটি মিছিল নিয়ে কার্যালয়ে আসেন। তারা নয়াপল্টনস্থ ভিআইপি রোড বন্ধ করে মিছিল ও শোডাউন করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেন।

যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার জন্য তাদের রাস্তার এক লেন ছেড়ে দেয়ার কথা বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়। তাদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি বিএনপি অফিসে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভীসহ অন্য সিনিয়র নেতাদের জানানো হয়। অফিসে মাইকের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ঘোষণা দিতে অনুরোধ করা হয়।

বেলা ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে নয়াপল্টনস্থ ভিআইপি রোডে হকস বে-নামীয় গাড়ির শোরুমের উত্তর পাশে রাস্তায় আসামিরা বিএনপির পার্টি অফিস থেকে লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় দাঙ্গা করে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা কয়েকটি ককটেল বোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে।

এ সময় তারা ৬০ লাখ টাকার একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে সহকারী পুলিশ কমিশনার মিশু বিশ্বাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মারাত্মক জখম হয়। আসামিদের মধ্যে হৃদয় থান হেলমেট পরে লাঠি দ্বারা পুলিশের ব্যবহৃত মিটসুবিসি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং হোসেন আলী, সোহাগ ভূঁইয়া ও আব্বাস আলী তাদের পরিহিত শার্ট খুলে খালি গায়ে আনন্দ প্রকাশ করে এবং পুলিশকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করে। তাই মামলার এজাহারনামীয় অন্যান্য পলাতক আসামিসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ইন্ধন ও মদদদাতাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন।

এদিকে জানা যায়, জড়িত হেলমেটধারী হৃদয় খান ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থী। রিমান্ডে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- শাহাজানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ ভূইয়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আব্বাস আলী, ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিন, ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জল ও ছাত্রদলের তিতুমীর কলেজ শাখার সহসভাপতি মো. মাহবুবুল আলম।

রাষ্ট্রপক্ষে সালমা হাই টুনিসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, আসামিরা সবাই ছাত্রদলের ক্যাডার। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার মূল রহস্য ও পরিকল্পনাকারী এবং মদদদাতাদের সম্পর্কে জানা যাবে।

অন্যদিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা খানসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আসামিদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, আসামিদের মধ্যে চারজন এজাহারনামীয় আসামি নয়। পুলিশ বলেছে, সেখানে আট থেকে ১০ হাজার লোকের মিছিল নিয়ে আসা হয়েছিল। আর সেই জনস্রোত সহ্য করতে না পেরে বিনা উসকানিতে পুলিশ হামলা চালায়। ধানমণ্ডিতে ঢাকঢোল পেটালে কোনো সমস্যা নেই আর নয়াপল্টনে জমায়েত হলে অসুবিধা কেন? নির্বাচন করতে আসা এসব লোকের রিমান্ডের কোনো প্রয়োজন নেই। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, ১৪ নভেম্বর দুপুরে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশের একটি পিকআপভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

এতে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা, দুজন আনসার সদস্যসহ ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় তিনটি মামলা দায়ের করে।