সংবাদ মাধ্যমের নামে ভুয়া পোর্টাল, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

0
32

অনলাইনে সংবাদ মাধ্যমের নামে ভুয়া নিউজ পোর্টাল তৈরি করে ভুয়া খবর প্রচার বিষয়টি সম্প্রতি দেশে বেশ আলোচিত। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠিত সংবাদ মাধ্যমের নামে পরিচালিত এসব নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত ভুয়া ও মিথ্যা খবরে বিভ্রান্ত হতে হচ্ছে পাঠকদের। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এমন কর্মকাণ্ডকে সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর ‘বিশেষ উদ্দেশ্যসাধনের মাধ্যম হিসেবে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মূল সংবাদ মাধ্যমের সঠিক ওয়েব পোর্টালের সঙ্গে এসব ভুয়া অনলাইন পোর্টালের প্রায় শতভাগ সাদৃশ্য থাকায় পাঠকের জন্য আসল-নকলের ফারাক বোঝাটাও বেশ কঠিন। পোর্টালের ওয়েব ঠিকানায় একটি বা দুটি বর্ণের এদিক-সেদিকে সচেতন ভাবে খেয়াল না করলে ঘোল খেতে পারেন বুদ্ধিমান পাঠকরাও। ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন বিবিসির বাংলা সংস্করণ বিবিসি বাংলাসহ একটি জাতীয় দৈনিক এবং অনলাইন গণমাধ্যমের হুবহু নকল করেও ওয়েবসাইট তৈরি করে খবর প্রকাশ করা হয়।

পুনঃতফসিল ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি মূলধারার বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের নামে বানানো ওয়েবসাইট থেকে ভুয়া সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। বিশেষ করে, রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন সভা-সমাবেশের বরাত দিয়ে স্পর্শকাতর খবর প্রকাশিত হয় এসব ওয়েবসাইটে। সর্বশেষ গত ১৮ নভেম্বর (বুধবার) নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়ন বিক্রির সময় হওয়া পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায়ও উসকানিমূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে সে সব ওয়েবসাইট থেকে।

মূলত এরপরেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে সংবাদ মাধ্যম ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। এ ব্যাপারে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত আরম্ভ করেছে পুলিশের একাধিক বিশেষায়িত বিভাগ। তবে এখনও নিয়ন্ত্রণে এনে ভুয়া সাইটগুলোকে বন্ধ করা যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘গত রবিবার (১৮ নভেম্বর) বিবিসি বাংলাসহ একটি সংবাদ মাধ্যমের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তার প্রেক্ষিতে আমরা তদন্তও আরম্ভ করেছি। এখন পর্যন্ত তদন্ত করে দেখা গেছে যে, ভুয়া ওয়েবসাইটগুলোর ডোমেইন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রয় করা হয়েছে। তবে এগুলোর অ্যাডমিন প্যানেল আমাদের এখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। আর খুব সম্ভবত সবগুলো ভুয়া ওয়েবসাইট একই গোষ্ঠীর সদস্যরা পরিচালনা করছেন। আমাদের হাতে কিছু নাম ও নম্বর এসেছে। আশা করছি খুব দ্রুত চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে পারব।”

কোনো এক বা একাধিক সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী বিশেষ উদ্দেশ্যসাধনের লক্ষ্যেই এমনটা করছেন বলেও মনে করেন ডিএমপির এ সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, ‘জনগণের মাঝে উসকানিমূলক সংবাদ ছড়িয়ে দিয়ে তাদের আতঙ্কিত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করাই এ ধরনের অপরাধীদের মূল লক্ষ্য।’

সংবাদ মাধ্যমগুলোর ডোমেইন নামের সঙ্গে মিল রেখে পরিচালিত এসব পোর্টালের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। প্রতিষ্ঠিত সংবাদ মাধ্যমের নামে ভুয়া ডোমেইন কীভাবে ক্রয় যায় আর তা দেশে কীভাবে পরিচালিত হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে কমিশনের আইনি সীমাবদ্ধতার কথা জানায় সংস্থাটি।

এ ব্যাপারে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বিষয়টি ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি আইনের (মেধাস্বত্ব আইন) মধ্যে পড়ে। এখন কেউ যদি যথাযথ অভিযোগ এবং প্রমাণাদির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রমাণ করতে পারে যে, তাদের পোর্টালের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ওয়েবসাইট করা হচ্ছে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সেটি জানালে আমরা ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করে দেব। অথবা আদালতের আদেশ পেলেও আমরা সেগুলো বন্ধ করে দেব। এর বাইরে এমনিতে আমরা সেগুলো বন্ধ করতে পারি না।’