প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরি, ভর্তি হতে না পেরে অনশনে শিক্ষার্থী

0
29

ছেলেটির নাম রহমত উল্লাহ। বাড়ি মাদারীপুর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ৯১৭তম হয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু আসার সময় ট্রেনে তার ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র চুরি হয়ে যায়। আর এতেই ভর্তির স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে বসেছে রহমতের।

১ম মেধাতালিকার শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিলো চলতি মাসের ১৮ তারিখ। কিন্তু তাৎক্ষণিক বোর্ড থেকে এসব কাগজপত্র তুলে আনাও অসম্ভব। তাই উপায়ান্তর না দেখে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে রহমত। সেই সাথে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ডকুমেন্ট হিসেবে সেই কাগজপত্র এবং নিজের ইমেইল থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, মার্কশিট এসবের ফটোকপি বের করেন। সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত নিজ এলাকার একজন শিক্ষকের সুপারিশ নিয়ে দরখাস্ত জমা দেন। কিন্তু এসব গ্রহন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত চারদিন ধরে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অফিসের সামনে ঘুরলেও সব চেষ্টাই বিফলে যায় তার। এমনকি অফিস থেকে তার দরখাস্তটিও ফেরত দেওয়া হয়।

এদিকে ভর্তি হতে না পেরে বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আমরণ অনশনে বসেন রহমত উল্লাহ। ‘অশিক্ষিত, মূর্খ চোর কেড়ে নিলো সার্টিফিকেট, আর শিক্ষিতরা কেড়ে নিতে চায় জীবন’, ‘মাননীয় ডিন, একটি পরিবারের স্বপ্নকে জীবন্ত কবর দিবেন না।’ এরকম কিছু স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড সাথে ছিলো তার।

পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী এসে তাকে অফিসে নিয়ে যান। এবং রবিবার কাগজপত্র নিয়ে দেখা করার কথা বলে অনশন ভাঙান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী জানান, আগামী রবিবারের মধ্যে রহমত উল্লাহকে তার বোর্ডে একটা আবেদন করতে বলা হয়েছে। এবং বোর্ড থেকে আবেদন মঞ্জুরির যে কাগজপত্র দিবে সেটা নিয়ে দেখা করতে বলা হয়েছে। আমরা তখন মিটিংয়ে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ নিয়ে রহমত উল্লাহ জানান, আমি কোনো নিশ্চয়তা পাইনি। আমি সব কাগজপত্র নিয়ে রবিবারে দেখা করবো। তাও যদি কোনো সমস্যা হয় তখন আমি পুনরায় অনশনে বসবো।