পিরিয়ডে প্রচণ্ড পেটব্যথা! অসুস্থতার লক্ষণ নয় তো?

0
31

পিরিয়ড মানেই পেটব্যথা। পিরিয়ডের পুরোটাই যেহেতু পেটের নিচের অংশটুকুকে কেন্দ্র করে, তাই শরীরের বাকি অংশগুলোর সাথে পেটও অনেক বেশি আক্রান্ত হয় এসময়। অনেকের ক্ষেত্রে এই ব্যথা অসহ্যরকমের বেশি হয়ে দাঁড়ায়। সেক্ষেত্রে নারীরা প্যারাসিটামল খেয়ে নেন প্রথমেই।

তবে শরীরের আরও অনেক ব্যথার মতোই পিরিয়ডকালীন সময়ে পেটে তৈরি হওয়া অসহ্যকর ব্যথাও কিন্তু ক্ষতিকর কিছুর নির্দেশক হতে পারে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চান? পড়ে নিন এই আর্টিকেলটি।

সম্ভাব্য যে অসুখগুলো হতে পারে পিরিয়ডকালীন অতিরিক্ত ব্যথার কারণ- 

ওভারিয়ান সিস্ট- 

জরায়ুতে হওয়া সিস্ট অনেকসময় পিরিয়ডের সময় হওয়া অতিরিক্ত পেটব্যথার কারণ হতে পারে। সিস্ট বলতে মূলত নানান আকৃতির পানি ভর্তি অংশকে বোঝায়, যেগুলো জরায়ুর গায়ে অনেকটা পরজীবীর মতো জন্ম নেয়। সাধারণত, এই ওভারিয়ান সিস্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। তাই সবকিছু একদম ঠিকঠাক মনে হয়। তবে অনেকটা বড় হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে পিরিয়ডের সময় বাড়তি চাপ, অস্বস্তি আর ব্যথা সৃষ্টি করে।

ইউটেরাইন ফাইব্রয়েডস-

ইউটেরাইন ফাইব্রিয়েডস জন্ম নেয় ইউটেরাসে। এমনিতে কোনো লক্ষণ না থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদী নানা সমস্যার জন্ম দেয় এটি। গর্ভধারণের ক্ষেত্রে ইউটেরাইন ফাইব্রয়েডস বাধা সৃষ্টি করে।

এন্ডোমেট্রিওসিস-

গর্ভাশয় যদি নিজের স্থান পরিবর্তন করে এবং জরায়ু থেকে বেরিয়ে যায় সেক্ষেত্রে সমস্যাটিকে এন্ডোমেট্রিওসিস বলা হয়। এক্ষেত্রে অনেকসময় সন্তান ধারণের ক্ষেত্রেও সমস্যা সৃষ্টি হয়। কারণ, এমন সমস্যায় গর্ভধারণের অঙ্গগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে।

পেটব্যথা

পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি)- 

এটি এক রকমের সংক্রমণ। যেটি শুরু হয় যৌনাঙ্গ থেকে, আর এরপর একে একে জরায়ু, মূত্রনালীসহ শরীরের বাকি অঙ্গগুলোকে প্রভাবিত করে। খুব দ্রুত কোনো চিকিৎসা করালে ব্যাপারটি আর বাড়তে পারে না। তবে আপনি যদি সমস্যাটিকে এভাবেই রেখে দেন তাহলে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। আর পিরিয়ডের ব্যথাও এর কারণে হতে পারে।

এডিনোমায়োসিস- 

গর্ভের দেয়াল যদি জরায়ুর একেবারে লাগোয়া হয়ে বাড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে পিরিয়ডের সময় এটি প্রচণ্ড ব্যথা তৈরি করে। শুধু তাই নয়, এতে করে প্রচুর রক্তপাতও হতে পারে। আপনার যদি এই দুটো উপসর্গই থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিতেই পারেন।

এখন প্রশ্ন হলো, পিরিয়ডের সময় ঠিক কোন কোন লক্ষণ দেখলে আপনি আপনার শরীরে কোনো সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করবেন। পিরিয়ডের সময় রক্তপাত হবে এবং ব্যথাবোধ করবেন আপনি— এটাই স্বাভাবিক।

তবে নিচের ব্যাপারগুলো যদি আপনার মধ্যে এসময় দেখতে পান তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। লক্ষণগুলো হচ্ছে-

পেটব্যথা

১। আপনার তো আগেও পিরিয়ড হয়েছে। ভেবে দেখুন তো, আগে কি আপনার এখনকার চাইতে কম ব্যথাবোধ হতো? যদি মনে হয় যে, একটু একটু করে ব্যথা বেড়েছে এবং অসহ্যকর হয়ে উঠেছে তাহলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

২। আপনার প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবন পদ্ধতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পিরিয়ডের ব্যথার কারণে।

৩। পিরিয়ডের সময় প্রায়ই যৌনাঙ্গে হালকা জ্বালাপোড়া বা চুলকানি অনুভব করছেন আপনি।

৪। পিরিয়ডের ২-৩ দিন পরেও পিরিয়ডের ব্যথা বা এ সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো অনুভব করছেন। অনেক সময় পিরিয়ডের পরেও এই ব্যথা অনুভব করছেন আপনি।

৫। সাধারণ ও স্বাভাবিক রক্তপাতের চাইতে অনেকদিন বেশি পিরিয়ড হচ্ছে।

৬। এছাড়াও, আপনার যদি অনিয়মিত পিরিয়ড হয়, বমিভাব হয় বা বাড়তি কোনো সমস্যা শুধু পিরিয়ডের এই সময়টিতেই প্রতিবার হয়ে থাকে, তাহলে আর দেরি না করে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

নিশ্চয় একটি চিন্তা হচ্ছে নিজের শরীরকে নিয়ে? হওয়ারই কথা। তবে হ্যাঁ, এই সামান্য সতর্কতা হয়তো আপনাকে অনেক বড় সমস্যার হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে। আর তাই, পিরিয়ডের যে কোনো জটিলতা ও অস্বাভাবিকতা সম্পর্কে সচেতন হোন এবং দ্রুত চিকিৎসা নিন।

সূত্র : মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটাল