নৌকার মাঝি হলেন জাবির সাবেক দুই শিক্ষার্থী

0
54

আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি:  আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম আবর্তনের ইতিহাস বিভাগের এ কে এম এনামুল হক শামীম ও ১৬তম আবর্তনের বাংলা বিভাগের আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

রবিবার (২৫ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে তাদেরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।

জানা যায়, শরীয়তপুর-২ আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন এনামুল হক শামীম আর জয়পুরহাট-২ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

একেএম এনামুল হক শামীম ১৯৬৫ সালে শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার পাইকবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ মোহাম্মদ আবুল হাশেম মিয়া ও মাতার নাম বেগম আশরাফুন্নেসা। পেশাগত জীবনে তার বাবা ছিলেন একজন প্রকৌশলী। এনামুল হক শামীমের দাদা আলহাজ রওশন আলী ছিলেন একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নানা আব্দুল জলিল মুন্সী ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। বলা যায়, ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক আবহে বড় হয়েছেন তিনি।

স্কুলজীবনেই ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি হয় এনামুল হক শামীমের। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ সত্ত্বেও জাতির পিতার আদর্শ বুকে নিয়ে যোগ দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগে। ১৯৭৯ সালে নোয়াখালীর এমএ উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠরত অবস্থায় তিনি স্কুল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করার পর উচ্চশিক্ষা লাভের ব্রত নিয়ে উনি ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনি ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিপুল ভোটে ১৯৮৯ সালে তিনি জাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির পাশাপাশি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়েও তার ছিল সদর্প বিচরণ। ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। সততা, আন্তরিকতা, কঠোর পরিশ্রম ও শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বস্ততার পরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে উনি ধীরে ধীরে ওঠে আসেন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে। ১৯৯২ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহসভাপতি এবং ১৯৯৪ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির বার্তা নিয়ে তিনি ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। মূলত তার নেতৃত্বের গুণেই উনার মেয়াদকালে ৭৫ পরবর্তী সময়ে প্রথমবারের মতো সারাদেশে ছড়িয়ে পরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জয় জয়কার। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাসে এনামুল হক শামীমের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে সবসময়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের পৈতৃক বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার টিঅ্যান্ডটি পাড়া এলাকায়। তিনি জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।