কৃষকের মুখে হাসি এনেছে আগাম জাতের শিম

0
20

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ সবজি চাষিদের চোখে-মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। বিষন্নতার ছাপ অনেকটাই ম্লান হয়েছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সবজি চাষীদের গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের মধ্য দিয়ে।

সাধারণত শীতকালে শিম চাষ করেন সবজি চাষিরা। এবার নতুন ‘বারি-৪’ ও ‘ইপসা-১’ জাতের শিমের ফলন ভালো হয়েছে। আগাম গ্রীষ্মকালীন চাষে ফলন ও দাম-দুটোই তারা পেয়েছেন ভালো। এ কারণে সবজি চাষিরা এবার ভীষণ খুশি বলে জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কমলাবাড়ি এলাকা ঘুরে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর শিমের মাচা। ছড়ায় ছড়ায় ঝুলছে শিম। অসময়ে শিম চাষ! বিষয়টি জানতে চাওয়া হয় ওই এলাকার সবজি চাষি ফেরদৌস আলম নিজেকে একজন সফল শিম চাষি হিসেবে গড়ে তুলেছেন। সে বর্তমানে বাবা আব্দুস সালামকে নিয়ে সারাদিন শিমের বাগানে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে বিক্রির পাশাপাশি বীজ উৎপাদন করছেন । তিনি গত বছর ৬ হাজার টাকা খরচ করে মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে শিম চাষ করে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা আয় করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চলতি মৌসুমে ১৮/২০ হাজার টাকা খরচে ৬৫ শতাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল শিমের চাষ করেন। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শুধু বীজ উৎপাদনের জন্য এবং বাকী ৩৫ শতাংশ জমির শিম সবজি হিসেবে গত এক মাস ধরে বাজারে বিক্রি করছেন।

ওই গ্রামের আরেক সবজি চাষি আব্দুর ছাত্তার। তিনিও প্রায় দেড় বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছেন। তিনি বলেন, অসময়ে শিম, তাই পোকা মাকড়ের উপদ্রব কম। শীতকালীন শিম চাষের চেয়ে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে রোগবালাই অনেকাংশে কম। তাই ওষুধ ও সার খরচও কম। এ সময় শিমের বাজারদামও ভালো। প্রতিকেজি শিমের পাইকারি মূল্য পেয়েছি ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

একই এলাকার সবজি চাষি আব্দুর রাজ্জাক করিম বলেন, শ্রাবণ মাসের প্রথম দিকে এই শিমের বীজ বপন করতে হয়। চারা বের হওয়ার ২৫ থেকে ৩০ দিনের মাথায় গাছে ফুল আসা শুরু হয়। দেড় মাস বয়সের গাছ থেকে শিম তোলা শুরু হয়। তিন থেকে চার দিন পর পর শিম তুলে আমরা বিক্রি করি। তিনি বলেন, আমরা অনেকেই এর আগে সবজি চাষ করে দাম না পেয়ে ঋণে জর্জরিত ছিলাম। এখন আমরা অনেকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছি।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিদু ভূষন রায় জানান, শিম প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি সবজি। এর বিচিও সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। তাই দেশে এর চাহিদা ব্যাপক। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। শিম চাষিরা বেশ লাভবান হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।