অরিত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শিক্ষিকা হাসনাহেনাকে গ্রেফতার

0
22

অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাতী শাখার শিক্ষিকা হাসনাহেনাকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি অরিত্রীর শ্রেণী শিক্ষক ছিলেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, রাজধানীর উত্তরা থেকে বুধবার রাত ১১টার দিকে ওই শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, অরিত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে অভিযোগ ‘প্রমাণিত’ হওয়ায় শিক্ষিকা হাসনাহেনা ছাড়াও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতী শাখার শিফট ইনচার্জ জিনাত আখতারের গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পরপরই স্কুলে গিয়ে সেদিনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে ডিবি পুলিশ। শিক্ষক ও অরিত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। এরপর থেকেই অভিযুক্তদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিকেলে শিক্ষামন্ত্রণালয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে চিঠি পাঠায়।

ওই চিঠিতে বলা হয়, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখা প্রধান জিনাত আখতার এবং শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হল।

প্রসঙ্গত, অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, অরিত্রী ক্লাস পরীক্ষায় মোবাইলে উত্তরপত্র লিখে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দিয়ে স্কুল থেকে সোমবার আমাকে ডেকে পাঠানো হয়। আমি স্কুলের প্রিন্সিপালের রুমে দুঃখ প্রকাশ করতে গেলে তারা অরিত্রীকে টিসি দিয়ে দেবে বলে জানান এবং আমাকে অনেক কথা শোনান।

তিনি বলেন, এ সময় আমি মেয়ের সামনেই কেঁদে ফেলি। অরিত্রী হয়তো আমার ওই কান্না-অপমান মেনে নিতে পারেনি। বাসায় ফিরে সে তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। অরিত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা হয়।