পীরগঞ্জে নৌকা প্রচারনায় বাধাসহ কর্মিদের মারধর ও নির্বাচনী অফিস ভাংচুর

0
75

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ গরম হয়ে উঠছে। গত কয়েক দিনে এ আসনে নৌকার মার্কার কর্মীদের মারধর, হুমকি, মোটর সাইকেল ভাংচুর নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ ও প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই।

এইসব ঘটনায় মামলাও হয়েছে। মামলায় আসামি হিসেবে ছাত্রলীগের নেতাদের নামও রয়েছে। আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকর্মী এবং নৌকার কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় অনেকটা সুবিধায় ভোটের মাঠে আছেন বিএনপি। যদিও নির্বাচনী নাশকতার আশঙ্কায় বিএনপি’র কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বর্তমান এমপি ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ইয়াসিন আলী। অপরদিকে মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগের দুই নেতাও এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। মটর গাড়ি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক। আর পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র রায়ও সিংহ প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন।

বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ নির্বাচন করছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দীন আহমেদ। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে কাস্তে প্রতীক নিয়ে প্রভাত সমীর শাহাজান আলম, আম প্রতীক নিয়ে শাফি আল আসাদ এবং হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ নির্বাচন করছেন।

স্থানীয় লোকজন ও নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ করছেন মহাজোটের প্রার্থী নৌকার প্রতীকের ইয়াসিন আলীর প্রচারণা, আবার কেউ করছেন আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমদাদুল হকের মটর গাড়ি প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণা। আবার অনেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র রায়ের সিংহ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণা করছেন। তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার কারণে এ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট এই তিন প্রার্থীর মধ্যেই ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে দেখা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকর্মীরা মটর গাড়ি প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। আওয়ামী লীগের ভোট তারা মটর গাড়ি প্রতীকেই চাচ্ছেন। তবে পার্শ্ববর্তী রাণীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকর্মীরা মহাজোটের প্রার্থী ইয়াসিন আলীর পক্ষে নৌকা প্রতীকের প্রচারণায় কাজ করছেন।

গত ২২ ডিসেম্বর (শনিবার)বিকাল আনুমানিক বিকাল ৫:১৫ মিনিটে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী গণসংযোগে বাধার সমুক্ষীন ও মারধরের স্বীকার হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম রবি সহ তার সাথে থাকা আওয়ামী সমর্থকরা ।এ ঘটনায় পীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গত ২৩ ডিসেম্বর (রোববার) থানায় একটি মামলা করেছেন নৌকা মার্কার কর্মী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত আলী।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মটরগাড়ি মার্কার ইমদাদুল হকের কর্মীরা তাদের নির্বাচনী গণসংযোগে বাধা, মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। দুপুরে এই মামলা হওয়ার পর রোববার দিবাগত রাতেই নৌকা মার্কার একটি নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। যদিও নৌকা মার্কা প্রার্থী ইয়াসিন আলী বলছেন, তার সন্দেহ মটর গাড়ি মার্কার কর্মীরাই নৌকার নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছেন।

তবে এইসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও সাজানো দাবি করে মটরগাড়ি মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা ইমদাদুল হকের ভাষ্য, ‘জনগণই তাকে (ইয়াসিন আলী) প্রতিহত করছে। আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে এগুলো মিথ্যা-ভিত্তিহীন। আমরা কারো নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছি না।’

এ আসনে আওয়ামী লীগের তিন ভাগে বিভক্ত হওয়াকে কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ ও তার নেতাকর্মীরা। তবে গত কয়েক দিনে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে পুলিশ আটক করার পর থেকেই অনেকটা গোপনেই ভোটের মাঠে আছেন দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হলে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান বিএনপি প্রার্থী জাহিদুর রহমান।

এছাড়া জয় পাওয়ার লক্ষ্যে ভোটের মাঠে দিন-রাত কাজ করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন ও তার নেতাকর্মীরা। আর কাস্তে প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রাথী প্রভাত সমীর শাহাজান আলমও নির্বাচনী গণসংযোগে ভোটের মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে মাইকিং ও পোস্টারিংয়ে প্রচার-প্রচারণা ছাড়া হাতপাখা ও আম মার্কার প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি।