ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তা একযোগে বরখাস্ত

0
20


স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তাকে সাময়িক ভাবে একযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। ব্যাংকের দুইজন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারকে মারধর, ব্যাংকের টেবিল চেয়ার ও আসবাবপত্র ভাংচুরের দায়ে শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার তাদের সাময়িত ভাবে বরখাস্ত করা হয়। সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম অফিসের ইনচার্জ আব্দুল মজিদ এ খবর নিশ্চত করেন।

বরখাস্তকৃতরা হলেন ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংকের অফিসার আক্কাচ আলী, শৈলকুপা ব্যাংকের সিনিয়র ক্যাশ অফিসার নারশেদ আলী, শেখপাড়া বাজারের অফিসার হারুন উর রশিদ, একই ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার মানবেন্দ্র, রবিনারিকেল বাড়িয়া শাখার অফিসার মন্টু কুমার ঘোষ, কালীগঞ্জ শাখার হাবিবুর রহমান ও ঝিনাইদহ প্রিন্সপাল অফিসের রোকন উদ্দীন।

সোনালী ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের একটি সুত্র জানায়, গত ১ জানুয়ারী/২০১৮ তারিখ সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সোনালী ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু পরিষদ সমর্থিক ব্যাংকাররা সৌজন্য সাক্ষাত ও নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য বসেছিল। এ সময় বহিরাগত ব্যক্তিরা সেখানে হামলা করে ব্যাংকের দুইজন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারসহ ম্যানেজারদের মারধর করে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সোনালী ব্যাংকের এমডি দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।

পরে উল্লেখিত ৭ অফিসারকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়। সুত্র জানায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা পরিষদের নেতাদের দ্বন্দের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে দুই সংগঠনের কোন নেতাই মুখ খুলছে না। বিষয়টি নিয়ে সোনালী ব্যাংকের অফিসার ও স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের নেতা আক্কাস আলী জানান, আমরা কোন ভাবেই এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার সাথে জড়িত নয়।

ঘটনার দিন কে বা কারা ব্যাংকের অফিসার কামালকে মারধর করে। আমরা তাদের চিনিও না। পরে জানতে পারি ব্যাক্তিগত আক্রশের কারণে অফিসার কামালকে মারধর করা হয়েছে এবং এ ঞঘটনার সাথে আমাদের দায়ী করে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শিশু ওয়ার্ড না থাকায় আক্রান্ত শিশুদের মহিলা ওয়ার্ডে রেখে চলছে চিকিৎসা
শৈলকুপায় শিশু ডায়রিয়া রোগে ৩২ দিনে ২ শতাধিক আক্রান্ত
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় শিশু ডায়রিয়া রোগে ৩২দিনে ২শতাধিক আক্রান্ত রোগী শৈলকুপা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তন ও অতিরিক্ত শীতের কারণে গত ৩২ দিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে শিশু ডায়রিয়া রোগে ২ শতাধিক রোগী আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি জানুয়ারী মাসের দুই দিনে ঝাউদিয়া গ্রামের জীবন বিশ^াস (১৫), বিজুরিয়া গ্রামের আসাদুজ্জামান ৮মাস, বারইপাড়ার তাহিয়া (২), নলখোলার তাজিব (১) জালসুকার রাজুমোল্যা (৬মাস), মধ্যপাড়ার আমিদ(২), কবির পুরের ছামিয়া (১), বরিয়া গ্রামের হিরা (১) দলিলপুরের রাকিব( ৮মাস), লক্ষনদিয়ার রাজকুমার (৭০),বারইপাড়ার শিলিনা (৩৫) ,কবিরপুরের রিনা (৩) ,উত্তরপাড়ার সুফিয়া (৬), আগুনিয়াপাড়ার রিজাউল (৩৫), মজুমদারপাড়ার রুবাইয়া(৩), সারুটিয়ার হেলেনা (১), শাহবাড়িয়ার ইমান (২) ডাউটিয়ার মামিন (৫) সহ ১৯ জন গত ২দিনে শিশু ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ড না থাকায় আক্রান্ত শিশুদের মহিলা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়াও বেড স্বল্পতার কারণে হাসপাতালের মেজেতে মাদুর বিছিয়ে আক্রান্ত রোগীদের রাখায় অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান কর্তব্যরত সেবিকারা। শিশু ডায়রিয়া রোগে ভর্তি তাজিব এর মা জানান বেডের সমস্যা প্রকট। হাসপাতালের টিএইচও ডাঃ খন্দোকার মোঃ বাবর জানান ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারী দুই মাসে আবহাওয়া পরিবর্তন ও অতিরিক্ত শীতের কারণে রোটা ভাইরাস রোগে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। তবে খাবার স্যালাইন, মায়ের বুকের দুধ, নরম খিচুরী, চিড়ার মার খাওয়ালে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে। ডায়রিয়া রোগের প্রকাপ দিন দিন যে ভাবে বাড়ছে তাতে জরুরী পদক্ষেপ না নিলে মহামারী আকার ধারন করতে পারে বলে এলাকাবাসীরা আশঙ্কা করছে। সেই সাথে তারা সিভির সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।