খাবার নিয়ে কিছু কুসংস্কার

0
80

১. বাচ্চারা চিনি খেলে নাকি কৃমি হয়। কিন্তু চিনির সঙ্গে কৃমির কোনো সম্পর্ক নেই বরং বাচ্চাদের কৃমি হয় বড়দের অসচেতনতার কারণে।

২. গর্ভবতী মাকে ডিম খেতে দেয়া হয় না, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। গ্রামে এখনো অনেকে মনে করেন, গর্ভবতী মা ডিম খেলে বাচ্চার হাঁপানি হবে। ডাবের পানি খেলে বাচ্চার চোখ ঘোলাটে হবে। ক্ষীরা খেলে বাচ্চার ত্বক ক্ষীরার মতো হবে। কিন্তু এ ধারণাগুলো মোটেই ঠিক নয়। বরং গর্ভবতী অবস্থায় মায়েদের সব ধরনের খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তবে গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়া ঠিক নয়।

৩. অনেকে বাচ্চাদের ডায়রিয়া হলে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দেয়। আসলে বাচ্চাদের ডায়রিয়া হলেও মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না।

৪. ঠান্ডা লাগলে অনেক সময় বাচ্চাদের কলা খেতে দেয়া হয় না। কিন্তু ঠান্ডার সঙ্গে কলার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং ঠান্ডা লাগতে পারে ঠান্ডা খাবার খাওয়া কিংবা ঠান্ডা পানি পান করার মধ্য দিয়ে।

৫. বলা হয়ে থাকে, বেশি মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয়। কিন্তু এ দুয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ডায়াবেটিস হলে মিষ্টি খেতে হয় না।

৬. টক খেলে গলাব্যথা ভালো হয়ে যায়, এ কথাটা ঠিক নয়। ভিটামিন সি কিংবা টকজাতীয় খাবারের সঙ্গে গলাব্যথার কোনো সম্পর্ক নেই।

৭. তেঁতুল খেলে বলা হয়ে থাকে রক্ত পানি হয়ে যায়। এটা পুরোপুরি ঠিক নয় বরং তেঁতুলে রক্তের চর্বি কাটে, ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়।

৮. মাংস আর দুধ একসঙ্গে খেতে নিষেধ করেন অনেকে। অথচ আমরা কোরমা, রেজালা রান্না করে থাকি, তাতে কিন্তু দই আর দুধ মেশানো থাকে। কাজেই এ কথাটিও ভুল।

৯. গ্যাস্ট্রিক বা আলসার হলে আগের দিনে বলা হতো সারাক্ষণ দুধ খেলে পেটের জ্বালাপোড়া চলে যায়। কিন্তু এ কথাটা একেবারে ঠিক নয়। এখনকার সময়ে চিকিৎসকেরা বলেন গ্যাস্ট্রিক বা আলসার হলে সারাক্ষণ দুধ খেলে তা ঠিকমতো হজম হয় না, ফলে অ্যাসিডিটি বাড়ে।

১০. জন্ডিস হলে তেল, হলুদ, মরিচ ছাড়া শুধু সেদ্ধ খাবার দেয়া ঠিক নয় বরং জন্ডিসের রোগীদের সব ধরনের খাবার দেয়া ঠিক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।