রংপুর রাইডার্সের প্রথম জয় !

0
201

হার দিয়ে বিপিএল শুরুর পর দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। রাইলি রুশোর ফিফটির পর বোলারদের নৈপুণ্যে খুলনা টাইটান্সকে ৮ রানে হারিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

মিরপুরে রোববার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে রুশোর ৭৬ রানের সুবাদে ৩ উইকেটে ১৬৯ রান করেছিল রংপুর। জবাবে ৯০ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও খুলনা থামতে ১৬১ রানে, ৫ উইকেট হারিয়ে।

প্রথম ম্যাচের মতো টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রংপুরের শুরুটা ভালো হয়নি এদিনও। আবারো ব্যর্থ মেহেদী মারুফ। আগের ম্যাচের মতোই পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে তিনি ক্যাচ দেন ৫ রানে।

আলী খানের বলে মারুফ আউট হলে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ১৮ রানে। আরেক আফগান পেসার জহির খানের বলে এলবিডব্লিউ অ্যালেক্স হেলস। প্রথম ম্যাচে শূন্য রানের পর এবার তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫।

মোহাম্মদ মিথুন ভালো তিনটি চার মেরেছিলেন। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। কার্লোস ব্রাফেটের শর্ট বলে তিনি উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ১৯ রানে। ৯ ওভার ৫ বলে রংপুরের স্কোর তখন ৩ উইকেটে ৬৫। এরপরই রুশো ও বোপারা গড়েন শতরানের জুটি।

প্রথম ম্যাচে দলকে একাই টেনেছিলেন বোপারা। পাননি কোনো সঙ্গী। এবার ওপেনিংয়ে নেমে তাকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন রুশো। দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান তুলে নেন ফিফটি।

রুশো ও বোপারার অবিচ্ছিন্ন ১০৪ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিতে শেষ পর্যন্ত ১৬৯ রানের ভালো পুঁজি পায় রংপুর। ৫২ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন রুশো। ২৯ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৪০ রান বোপারার।

লক্ষ্য তাড়ায় খুলনাকে ভালো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার পল স্টার্লিং ও জুনায়েদ সিদ্দিক। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে দুজন যোগ করেন ৬১ রান। জুনায়েদের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন আইরিশ ব্যাটসম্যান স্টার্লিং।

সপ্তম ওভারে ৬২ রানে ভাঙতে পারত এ জুটি। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে বল মিস করেন জুনায়েদ। ওয়াইড বলটা গ্লাভসে জমালেও প্রথম সুযোগে স্টাম্প ভাঙতে পারেননি উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ মিথুন। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় বেল ফেললেও ততক্ষণে দাগের ভেতরে চলে যায় জুনায়েদের পা।

প্রথম ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৮৫ রান তুলে ফেলেছিল খুলনা। সবগুলো উইকেট হাতে রেখে শেষ ১০ ওভারেও তাদের দরকার ছিল ঠিক ৮৫ রানই।

দ্বাদশ ওভারে জুনায়েদকে ফিরিয়ে ৯০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন বেনি হাওয়েল। ৩০ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় বাঁহাতি ব্যাটসম্যান করেন ৩৩ রান। পরের দুই ওভারে আরো ২ উইকেট হারায় খুলনা।

১ রানে শফিউল ইসলামের বলে বোল্ড তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। আক্রমণে ফিরে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা স্টার্লিংকে ফেরান মাশরাফি। ৪৬ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় স্টার্লিং করেন ৬১ রান।

শেষ পাঁচ ওভারে খুলনার দরকার ছিল ৫৩ রান। আশা হয়ে টিকে ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ১৮তম ওভারে মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে খুলনার জন্য কঠিন কাজটা কঠিনতর করে তোলেন ফরহাদ রেজা। লো ফুল টস বলে কাভারে মাশরাফিকে ক্যাচ দেন ২৪ রান করা মাহমুদউল্লাহ।

শেষ ওভারে ২০ রানের সমীকরণটা আর মেলাতে পারেনি খুলনা। ফরহাদ রেজার ওভার থেকে ব্রাফেট ও জহুরুল নিতে পারেন ১১ রান। ৪ ওভারে ২৮ রানে একটি উইকেট নেন ফরহাদ। শফিউল ২ উইকেট নিলেও ৪ ওভারে খরচ করেন ৪৪ রান। (রাইজিংবিডি ডট কম)