হলিউডের গানের জগতে সর্বোচ্চ আয়ে এগিয়ে যারা

0
109

বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়ের ১০ জন হলিউড গায়িকার তালিকা প্রকাশ করেছেন বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ‘ফোর্বস। বিগত ২০১৭ সালের ১ জুন থেকে ২০১৮ সালের ১ জুন পর্যন্ত সেই বিখ্যাত ১০ জন শিল্পীদের আয়ের উপর ভিত্তি করে এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।

যেখানে সে সকল শিল্পীদের আয়কর, এজেন্ট ফি, ম্যানাজারের বেতন এমনকি তাদের আইনজীবীদের ফি অন্তর্ভুক্ত করে বাৎসরিক একটি আয় মূল্যায়ন করেন।

আজ বাংলাটপনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কমের পাঠকদের জন্য রইলো এই সেরা শিল্পীদের সাফল্যের কথা আর মোট আয়ের পরিমান।

কেটি পেরি

মার্কিন ডলার ৮৩ মিলিয়ন সর্বোচ্চ আয় করে এই তালিকার এক নম্বরে নাম লিখিয়েছেন ‘রোয়ার’ খ্যাত গায়িকা কেটি পেরি। তবে ২০১৫ সালে যখন তিনি ১৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন ফোর্বসের তালিকায় তখনই উঠে আসেন তিনি।

আর তখন থেকেই কেটি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে শুরু করেন। আর এই দুই বছরে তার আয়ের অধিকাংশই এসেছে তাঁর ৮০টি মঞ্চ পরিবেশনা থেকে। এছাড়া ২০১৭ সালে প্রকাশিত বিশিষ্ট অ্যালবাম ‘উইটনেস’ তার সফলতার বাকিটা পূরণ করে দেয়। এছারাও আমেরিকান আইডলের বিচারক, বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থেকে বিভিন্ন ভাবে তিনি এই আয় করেছেন বলে জানা যায়।

টেইলর সুইফট

সর্বোচ্চ আয়ের এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফট। বিগিত ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালে তাঁর আয়ের পরিমান দাঁড়িয়েছে ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আর তার এই আয়ের বেশীরভাগই এসেছে ২০১৭ সালে প্রকাশিত অ্যালবাম ‘রেপুটেশন’ থেকে। এমনকি এই অ্যালবামটি প্রথম সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী ২ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়।

বিয়ন্স নোয়েলস

৬০ মিলিয়ন ডলার আয় করে এই তালিকার তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন এই সংগীতশিল্পী বিয়ন্স নোয়েলস। ২০১৭ সালের জুন মাসে জমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেও একের পর এক কনসার্ট মাতিয়ে গেছেন এই মার্কিন সংগীতশিল্পী।

কিন্তু, তিনি একা নন, তার সাথে ছিল কনসার্টে বিয়ন্সের সফরসঙ্গী তাঁর স্বামী জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জে জি। এরইমধ্যে তার আয়ের বেশিরভাগই এসেছিল তাঁর অ্যালবাম, কনসার্ট এবং বিভিন্ন পন্যের চুক্তি থেকে।

পিংক

এই তালিকায় আরও নাম লিখিয়েছেন মার্কিন পপ গায়িকা অ্যালিসিয়া বেথ মুর। সংগীত ভুবনে তিনি পিংক নামে পরিচিত। তিনি মোট ৫২ মিলিয়ন ডলার আয় করে বিয়ন্সের ঠিক পরেই জায়গা করে নিয়েছেন এই তালিকায়।

তবে ‘পিংক’-এর এই আয়ের সাথে তাঁর অ্যালবাম, কনসার্ট, বিজ্ঞাপন ছাড়াও যোগ হয়েছে তার অভিনয় থেকে উপার্জিত অর্থও।

লেডি গাঁগাঁ

জনপ্রিয়তার দিক থেকে অন্যদের চাইতে এগিয়ে থাকলেও, সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় লেডি গাঁগাঁর অবস্থান হয়েছে পাঁচ নাম্বারে। বিগত দুই অর্থ বছরে গাগার আয় ছিল ৫০ মিলিয়ন ডলার।

এছারাও সংগীত এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তাঁর আয় বহুগুন বেড়েছে। যা বিগত বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপারের সাথে তাঁর অভিনীত ‘এ স্টার ইজ বর্ন’ বক্স অফিসে বেশ দারুণ সাড়া ফেলেছেন তার জীবনে।

জেনিফার লোপেজ

মূলত পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত তিনি। এছাড়াও হলিউডে নিয়মিত অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন জেনিফার লোপেজ।

তাছারাও ৪৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে ফোর্বসের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন তিনি। তার সর্বশেষ প্রকাশিত স্প্যানিশ অ্যালবাম ‘আমর সিন লিমিতে’-এর দারুণ সাফল্যতাই মূলত তাঁকে সেরার তালিকায় জায়গা করে দেয়।

রিহানা

রিহানার সেরার তালিকায় থাকাটা বেশ বিস্ময়ের। কারণ ২০১৬ সাল থেকে কোনো ধরনের কনসার্টে তিনি অংশ নিতেন না। তবে একাধিক ছবিতে তিনি কাজ করেছেন।

তবে বিগত বছর তাঁর ‘ওশান’স ৮’ নামের একটি ছবি মুক্তি পায়। এরপরে তার গানের সত্ত্ব, অভিনয় ও বিভিন্ন পন্য থেকে আয় দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৩৭ মিলিয়ন ডলার।

হেলেন ফিশার

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, এই তালিকায় একমাত্র শিল্পী হেলেন ফিশার। এই শিল্পী মোট ৩২ মিলিয়ন ডলার আয় করে এই তালিকায় রয়েছেন আট নম্বরে।

তবে তার এই আয়ের অধিইকাংশই আসে স্বনামে তাঁর সর্বশেষ প্রকাশিত অ্যালবাম থেকে। এমনকি এই অ্যালবামটি অস্ট্রিয়া, জার্মান এবং সুইজারল্যান্ডে টপ চার্টে জায়গা করে নেয়।

সেলিন ডিওন

এই বিখ্যাত সংগীতশিল্পীর অবস্থান রয়েছে তালিকার নয় নম্বরে। বিগত অর্থ বছরে বিভিন্ন অ্যালবাম, কনসার্ট ও বিজ্ঞাপন থেকে তাঁর আয় দাঁড়ায় ৩১ মিলিয়ন ডলার।

ব্রিটনি স্পিয়ার্স

৩০ মিলিয়ন ডলার আয় করে তালিকার সর্ব শেষ তথা দশম স্থান অর্জন করে নিয়েছেন এই জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ব্রিটনি স্পিয়ার্স।

বিগত বছরে তার সকল ব্র্যান্ড ইমেজ, কনসার্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে উপার্জিত আয় তাঁকে সেরার তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।