জাপায় পদোন্নতির হিরিক, ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বহিস্কৃতদের

0
26

ভাঙ্গন-বহিস্কার-অব্যাহতি আর প্রত্যাহারের রাজনীতিতে প্রায় ন্যুজ এরশাদের হাতে গড়া দল জাতীয় পার্টি। কখনও দলবল নিয়ে ভাঙ্গন, কখনোবা বহিস্কার আবার কখনো প্রত্যাহার আর বিশেষ ক্ষমতাবলে পদোন্নতির রাজনীতি গিলে খাচ্ছে জাপার সাংগঠনিক শক্তি। ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে পার্টির আকার। দূর্বল হয়েছে পড়ছে রাজনৈতিক শক্তি। জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে দল।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের দ্বিতীয় বৃহতম দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পার্টি। সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ, পরিবর্তন করা হয়েছে মহাসচিব, দেয়া হচ্ছে পদোন্নতি, ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বহিস্কৃতদের এবং সংগঠিত করা হচ্ছে দলছুটরা। চেইন অব কমান্ডে শৃঙ্খলা ফেরাতেও নেয়া হচ্ছে উদ্যোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের দাবি, ১৯৯০ সালে দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে গণ আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপর অসংখ্য মামলা আর নির্যাতনে জর্জড়িত হয়েও ২৮ বছরে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে বহুবার। কিন্তু রাজনৈতিক চালে বার বার পিছিয়ে পড়েছেন এরশাদ।

পার্টির শীর্ষনেতারা মনে করেন, তার সরকারের উন্নয়ন ও সুশাসনের কারণে জনগণের মনে যে জায়গা করে নিয়ে ছিলেন তিনি, সেই ভালোবাসায় আজও টিকে আছে জাপা। কিন্তু রাজনৈতিক কৌশলের কাছে হার মেনে এককভাবে দাঁড়াতে পারেননি বর্ষীয়ান এই নেতা। তবে জোটের রাজনীতিতে কিছুটা হলেও লাভবান হয়েছে জাপা।

তাই এবার পার্টির নেতৃত্বের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করে রাজনীতিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় পদোন্নতি দিয়ে এরশাদের অবর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জি এম কাদেরকে। পার্টির অভ্যন্তরীণ বিতর্ক থামাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে মহাসচিবের।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন এরশাদ। সঙ্গ দেন সাবেক রিবোধী দলীয় নেতা ও পার্টির সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। পার্টির সংসদীয় কমিটিতে মৃদু বিরোধীতার মুখে পড়ে দ্রুত উদ্যোগের পক্ষে মত দেন তিনি। চেয়ারম্যানের কড়া হুশিয়ারি সমর্থন জানান পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। নিজে সংসদে বিরোধী দলের নেতা এবং কো চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে উপ নেতা করতে স্পিকার বরাবর চিঠি পাঠান এরশাদ। পার্টির নয়া মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে বিরোধী চিফ হুইপ করার পরামর্শ দেয়া হয়। ৯ জানুয়ারি এরশাদের এসব আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্পিকার প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এছাড়া ১০ জানুয়ারি এরশাদকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ থেকে অব্যাহত দেয়া হয়।

এরআগে ৪ জানুয়ারি রংপুরের সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, ৬ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ৯ জানুয়ারি ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। ১০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আনোয়ার হোসেন তোতাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হাসিবুল ইসলাম জয়কে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এসব বিষয়ে আগেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখে জাপার মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, সামনে চ্যালেঞ্জিং সময়ে দেশের উন্নয়ন, দুর্ণীতি নির্মূল, অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমন এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এগুতে হচ্ছে। আর সেই সঙ্গে দেশে দ্রুতই প্রচলন ঘটছে উন্নত রাজনৈতিক চর্চ্চা। সেই রাজনীতিতে জাপার জন্য সামনে আসছে সুুদিন। তাই পার্টির নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে শক্তিশালী অবস্থান নিতে হাতে নেয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা।