খুলনায় কাঁকড়া চাষে ব্যাপক সফলতা

0
80

খুলনা অঞ্চলের সাদা সোনা হিসেবে খ্যাত চিংড়ির পর রফতানির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কাঁকড়া। সুন্দরবনের আশপাশ এলাকার কয়েক লাখ মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছে এই কাঁকড়া।

লাভজনক হওয়ায় খুলনার রূপসা, ফুলতলা, ডুমুরিয়া, দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছাসহ বাগেরহাট জেলার মোংলা, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা উপজেলার মানুষ বর্তমানে কাঁকড়া চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো খুলনার সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল হাসান বলেন, এ অঞ্চলের উৎপাদিত কাঁকড়া বিশ্বের ২৯টি দেশে রফতানি হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২৯১ কোটি ৭২ লাখ ২০ টাকা মূল্যের জীবন্ত ও হিমায়িত কাঁকড়া বিদেশে রফতানি হয়। গত অর্থবছরে ১৪৭ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা মূল্যের কাঁকড়া বিদেশে রফতানি হয়। ৪০টি প্রতিষ্ঠান কাঁকড়া রফতানি করে। কাঁকড়া খাত থেকে রফতানি আয় দ্বিগুণ বেড়েছে।

চাষিরা অনেকে খাঁচায় কাঁকড়া চাষ করছেন। মোটা তাজাকরণ পদ্ধতির এই কাঁকড়া জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রতিটি গড়ে ৪শ’ গ্রাম ওজনের হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে মৌসুমে প্রতি কেজি কাঁকড়া ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ অঞ্চলে উৎপাদিত কাঁকড়া সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, অ্যালবেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, সাইপ্রাস, বুলগেরিয়া, ইজিপট, ফিনল্যান্ড, চিলি, যুক্তরাজ্য, সাউথ আফ্রিকা, ভিয়েতনাম, পোল্যান্ড, নরওয়ে, মেক্সিকো, লেবানন, সেনেগাল, ভারত, তুর্কি ও সুইডেনে যাচ্ছে।

রফতানিকারকরা বলেন, বিশ্ববাজারে এ অঞ্চলের কাঁকড়ার চাহিদা ব্যাপক। এখানকার কাঁকড়া অন্য যেকোনো জেলার চেয়ে সুস্বাদু। তাই আধুনিক চাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ পাওয়া চাষিরা এখন বেশি লাভবান হচ্ছেন।

বটিয়াঘাটা উপজেলার ভগবতিপুরের কাঁকড়া চাষি রতন সরকার বলেন, ঝুঁকি কম ও লাভ বেশি হওয়ায় কাঁকড়া চাষ সাড়া ফেলেছে তাদের মধ্যে। তাছাড়া কাঁকড়া চাষে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে জেলা মৎস্য অধিদফতর। যা তাদের আরো উদ্বুদ্ধ করছে। আধুনিক চাষ পদ্ধতির ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে কাঁকড়া চাষ করছি। লাভও হচ্ছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরোজ কুমরি মিস্ত্রি বলেন, প্রায় দুইশ চাষি আটলিয়া, মাগুরখালি, শোভনা ও সাহস ইউনিয়নে কাঁকড়ার চাষ করছেন। উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করতে সোনালী ও কৃষি ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে।

পাইকগাছা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস বলেন, কেনাবেচার সুবিধার্থে উপজেলা সদর, কপিলমুনি, চাঁদখালী, গড়ইখালী ও বাঁকায় কাঁকড়ার ডিপো গড়ে উঠেছে। এখানে ৪ হাজার জমিতে চাষ হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু ছাইদ বলেন, গত অর্থবছরে ২৬ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমিতে ৮ হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদিত হয়। বাগদা ও গলদা চিংড়িতে লোকসান কাটিয়ে উঠতে চাষিরা স্বল্প পুঁজি ব্যয় করে কাঁকড়া চাষ সম্প্রসারণ করেছে।