চিকিৎসাবিজ্ঞানের যত অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার!

0
72

চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভাবনীয় সব উন্নতি সাধন ঘটে চলেছে! চিকিৎসাবিজ্ঞানের এ উন্নতি বিশ্ববাসীর জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে আরো সহজ, দিয়েছে দীর্ঘায়ু। বহুবিধ জটিল ও কঠিন রোগের হাত থেকে নিস্তার মিলেছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে। প্রতিদিনই বিজ্ঞানের এ শাখায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমন সব আবিষ্কার সম্পর্কে যা ঘটেছে একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে, কিন্তু পরবর্তীতে বাঁচিয়েছে লাখ লাখ প্রাণ! তবে জেনে নিন কী সেই আবিষ্কারগুলো-

কুইনাইন

কুইনাইন

ম্যালেরিয়া রোগের অব্যর্থ এক ওষুধ হচ্ছে কুইনাইন। ষোড়শ শতাব্দীতে একজন অজ্ঞাতনামা এক ভারতীয় ম্যালেরিয়া জ্বরের এ মহাষৌধ আবিষ্কার করেন অনেকটাই উদ্দেশ্যহীনভাবে। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, এক ভারতীয় ভদ্রলোক জঙ্গলে হারিয়ে গিয়ে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। তীব্র জ্বর নিয়ে যখন তিনি পানির পিপাসায় কাতর তখনই একটি পুকুরের সন্ধান পান। পুকুরের পানির স্বাদ যথেষ্ট তেতো হওয়া সত্ত্বেও প্রবল পিপাসা নিবারণের জন্য তিনি সেখান থেকে পানি পান করতে বাধ্য হন এবং অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন তার ম্যালেরিয়া ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এবং একটা সময়ে গিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি লক্ষ্য করেন ওই পুকুরটি ছিল কুইনা-কুইনা গাছের নিচে , যার নির্যাস তিনি পেয়েছিলেন সেখানকার পানিতে এবং তার জন্যই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। অতঃপর পথ খুঁজে পেয়ে তিনি গ্রামে ফিরে যান এবং সেখানে তার ম্যালেরিয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার গল্পটি বলেন। এভাবেই ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় কুইনাইন বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে!

লাফিং গ্যাস

লাফিং গ্যাস

লাফিং গ্যাসের রাসায়নিক নাম হচ্ছে নাইট্রাস অক্সাইড। এটি আবিষ্কার করেন জোসেফ প্রিস্টলি। রেক্রিয়েশনাল ড্রাগ হিসেবে মন-মেজাজ চাঙা করার জন্য এই গ্যাসের ব্যবহার সর্বজনবিদিত। প্রিস্টলি নাইট্রিক এসিডের ভেতরে কিছু লোহার টুকরো রেখে দেন। তা থেকে যে গ্যাস উৎপন্ন হয় তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে তিনি বেশ আনন্দ অনুভব করেন এবং বুঝতে পারেন এই গ্যাস মানুষের মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠিয়ে হাসির উদ্রেক করায়। এ পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে তিনি আগে থেকে একদমই অবগত ছিলেন না। পরবর্তীতে তিনি ডাক্তারদের কাছে তার এই গ্যাস নিয়ে যান এবং বেদনানাশক হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করেন !

ভ্যাসলিন

ভ্যাসলিন

১৮৫৯ সালে পেনসিলভেনিয়ায় একটি তেলের খনির মালিক বেশ অদ্ভুত এক সমস্যায় পড়েন। তার খনি শ্রমিকরা অভিযোগ করতে থাকে ভূ অভ্যন্তর থেকে তেলের বদলে এক বিশেষ আঠালো মোমের মত পদার্থ বেরিয়ে আসছে, যা তাদের যন্ত্রপাতিতে লেগে থাকে অসুবিধা সৃষ্টি করছে। তিনি উপায়ন্তর না দেখে সেসব পদার্থের কিছু নমুনা নিউইয়র্ক এর রাসায়নিক গবেষণাগারে পাঠিয়ে দেন। সেখানেই এটি নিয়ে গবেষণা করতে করতে রবার্ট চেজব্রাফ নামের এক রসায়নবিদ লক্ষ্য করেন, রাসায়নিক পদার্থটি কাঁটা ছেড়া দ্রুত সারিয়ে তুলতে বেশ পারদর্শী। তখনই হয় পেট্রোলিয়াম জেলির আবিষ্কার, আমরা অধিকাংশ মানুষই আজ যাকে ভ্যাসলিন বলে থাকি। মজার ব্যাপার হলো, বেশি উপকার পাওয়ার জন্য এর আবিষ্কারক চেজব্রাফ প্রথম দিকে প্রতিদিন ১ চামচ করে ভেসলিন খাওয়ার অভ্যাস করেন!

ইনসুলিন

ইনসুলিন

১৮৮৯ সালের কথা। অষ্কার মিনকভস্কি ও জোসেফ ফন মেরিং নামের দুই ডাক্তার মানুষের পরিপাক ক্রিয়ায় অগ্ন্যাশয় এর ভূমিকা কী তা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তারা একটি কুকুরের উপর পরীক্ষা চালিয়ে কুকুরটির অগ্ন্যাশয় শরীর থেকে অপসারণ করে ফেলেন। পরবর্তীতে তারা লক্ষ্য করেন, এর ফলে কুকুরটি শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটছে। অবাক হয়ে তারা লক্ষ্য করেন কুকুরটি মূত্র ত্যাগ করলেই সেখানে মাছির মেলা বসে যেত! তারা কুকুরটির মূত্র পরীক্ষা করে দেখেন সেখানে বিপুল পরিমাণে চিনি বিদ্যমান, যে কারণে তা মাছিদের আকর্ষণ করছে। এ থেকে তারা নিশ্চিত হন অগ্নাশয় কেটে ফেলার ফলে কুকুরটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছে! অগ্ন্যাশয় নিয়ে আরো গবেষণা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা এবং পরবর্তীতে আবিষ্কার করেন ইনসুলিন। এ আবিষ্কারের ফলে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস আর কোনো আতঙ্কের নাম হয়ে থাকল না, ইনসুলিন ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলো!

পেনিসিলিন

পেনিসিলিন

১৯২৮ সালের কথা। স্কটিশ জীববিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং তার গবেষণাগারে স্টেফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা করছিলেন। ব্যবহৃত পেট্রি ডিশ ভুল করে পরিষ্কার না করেই তিনি ছুটি কাটাতে চলে যান। ছুটি শেষে গবেষণাগারে ফিরে তিনি বেশ চমকপ্রদ একটি ব্যাপার লক্ষ্য করেন। এক বিশেষ প্রজাতির ছত্রাকের আক্রমণে অপরিষ্কার পেট্রি ডিশ এ থাকা সব ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে গেছে! এই ঘটনা থেকেই তিনি আবিষ্কার করেন পেনিসিলিন নামের বিখ্যাত অ্যান্টিবায়োটিক, যে ওষুধ পরবর্তীতে বাঁচিয়েছে কোটি কোটি মানুষের জীবন।

এক্স-রে

এক্স-রে

এক্স-রে’র আবিষ্কারক হলেন জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন। ১৮৯৫ সালে তিনি তার গবেষণাগারে ক্যাথোডরে টিউব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন টিউবটি থেকে কিছুটা দূরে সামান্য আলোক রেখা দেখা যাচ্ছে এবং সেখানে থাকা ধাতব পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আন্দাজ করলেন ক্যাথোড টিউবটি থেকে কোনো একটি অজানা রশ্মি বের হচ্ছে যা ধাতুর গাঁয়ে ক্ষয় ধরাতে সক্ষম। অজানা রশ্মি থেকেই তিনি এর নাম দিলেন এক্স, কারণ অজানা কিছুকে চিহ্নিত করতে আমরা এক্স বর্ণটি ব্যবহার করি। পরবর্তীতে আরো অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি এ রশ্মির উন্নতি সাধন করলেন, আজ পৃথিবীর সর্বত্র চিকিৎসায় এক্স-রে ব্যবহার করা হচ্ছে।